ফুংসুখ ওয়াংড়ুর মৃত্যু দেখতে চাই না! অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে সরব ‘চতুর’ ওমি বৈদ্য

দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ১৭ দিন ধরে চলছে এক অমানবিক লড়াই। তীব্র দাবদাহ এবং অনাহারে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটজনক। শরীরের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে—তবুও লাদাখের পরিবেশ ও স্বতন্ত্রতার দাবিতে অটল তিনি। অথচ, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের নীরবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে সোচ্চার হলেন ‘থ্রি ইডিয়টস’ খ্যাত অভিনেতা ওমি বৈদ্য।

২০০৯ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ আমির খানের অভিনীত ‘ফুংসুখ ওয়াংড়ু’ চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকেই অনুপ্রাণিত। অথচ ছবির সেই সাফল্যের সময় যারা পাশে ছিলেন, আজ সোনমের এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তাঁদের বিশেষ দেখা যাচ্ছে না। সেই নীরবতার মাঝেই ব্যতিক্রমী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন ছবিতে ‘চতুর রামালিঙ্গম’-এর চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য।

মঙ্গলবার ওমি বৈদ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি চাই না ফুংসুখ ওয়াংড়ু এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। আমি সচরাচর এমন ভিডিও করি না, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। আপনারা হয়তো জানেন না যে সোনম ওয়াংচুক ১৭ দিন ধরে অনশন করছেন। লাদাখের শিক্ষা, পরিবেশ এবং স্থানীয়দের স্বতন্ত্রতার দাবিতে সরব তিনি। আপনারা ওঁর আদর্শের সঙ্গে একমত হতে পারেন বা নাও পারেন, কিন্তু একজন মানুষের জীবন এভাবে বিপন্ন হওয়া কাম্য নয়। দয়া করে একটু সময় বের করে ওঁর পাশে দাঁড়ান।”

ডাক্তারি প্রবেশিকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ধর্নায় যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সোনম। তাঁর এই লড়াইয়ের সমর্থনে মুখ না খোলায় নেটিজেনরা আমির খানসহ বলিউডের অন্যান্য তারকাদের তীব্র ভর্ৎসনা করছেন। প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও ওমি বৈদ্যের এই মানবিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তিনি টুইটে লিখেছেন, “অন্তত ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর একজন সদস্য তো সোনমের সমর্থনে এগিয়ে এলেন। যন্তর মন্তরে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে যমুনার তীরে চলছে এই মরণপণ লড়াই। এবার দেখার পালা আমির খান আদৌ কোনো প্রতিক্রিয়া জানান কি না।”

আগামী ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সোনম ওয়াংচুকের এই লড়াই কেবল লাদাখের নয়, বরং গোটা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের জন্য। ওমি বৈদ্যের এই বার্তা কি আদৌ বলিউডের কুশীলবদের ঘুম ভাঙাতে পারবে? নাকি সোনমের এই ত্যাগের লড়াই কেবলই রাজনীতির অলিগলিতে চাপা পড়ে যাবে? এই প্রশ্ন এখন দেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মুখে।