তারাতলা বিপর্যয়ের জেরে কড়াকড়ি! নতুন নির্মাণে সবুজ সংকেত পেল ১১টি প্রকল্প

তারাতলা বিপর্যয়ের পর শহর কলকাতার নির্মাণকাজ নিয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত হাই-পাওয়ার কমিটির কঠোর নজরদারিতে এবার বড় পরিবর্তন এল আবাসন নির্মাণ শিল্পে। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, সমস্ত অনিয়ম রুখতে নির্মাণকাজ ফের নতুন করে অনুমতির আওতায় আনা হয়েছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এবার ১১টি নির্মীয়মাণ ভবনকে পুনরায় কাজ শুরুর জন্য ছাড়পত্র (Go-Ahead) দেওয়া হয়েছে।
স্মিতা পাণ্ডে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানান, গত তিন বছরে মোট ৩৪৪টি পুরনো বিল্ডিং প্ল্যান সার্ভের অধীনে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০০টি নির্মাণ কর্তৃপক্ষ নতুন করে আবেদনের সুযোগ পেয়েছে। পুরনিগমের তথ্য অনুযায়ী, ১৬০টি প্রকল্পের ফিল্ড সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি নির্মাণের ফাইল টেকনিক্যাল সাব-কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। অডিট কমিটি প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে দেখার পর মাত্র ১১টি ভবনকে কাজ শুরুর অনুমতি দিয়েছে। বাকি ২৩টি ফাইলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি মেলায় তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত ত্রুটি সংশোধন না করা পর্যন্ত সেখানে কোনো নির্মাণকাজ চালানো যাবে না।
তারাতলার ঘটনার পর নিয়ম কিছুটা কঠোর করা হলেও, সাধারণ জনস্বার্থের কথা ভেবে ছোটখাটো কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন, পাঁচিল দেওয়া, ভিত তৈরি বা মাটি কাটার মতো কাজে বিশেষ অনুমতি লাগছে না। তবে মূল বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে নজরদারি এখন সর্বোচ্চ স্তরে। গার্ডেনরিচ কাণ্ডের শিক্ষা নিয়ে কলকাতা পুরনিগম নির্মাণস্থলের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ‘লগ বুক’ পদ্ধতি চালু করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিত ছবি তুলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক জানিয়েছেন, এখন থেকে নির্মাণ অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি ‘ছাঁকনির নিচে’ রাখা হচ্ছে। ধাপে ধাপে প্রতিটি ধাপ যাচাই করার পরই মিলছে এনওসি (NOC)। স্পট ভিজিট বা সরেজমিনে পরিদর্শনের রিপোর্ট ছাড়া কোনো ফাইলেই ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। এদিনের সম্মেলনে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়টিও সামনে এনেছেন প্রশাসক। কমিটির নজরে এসেছে যে, অনেক ঠিকাদার আইনমাফিক শ্রমিকদের সুরক্ষা কবচ প্রদান করছেন না এবং তাঁরা প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়েও এখন কড়া অবস্থানে পুরনিগম।
শহরের ১২টি বোরো অডিট টিম বর্তমানে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট ছোট নির্মাণ কাজগুলিতেও বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা সরেজমিনে গিয়ে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের সাফ বার্তা—নিরাপত্তা নিয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না। অনিয়ম করলে শুধু ফাইল আটকে যাবে না, কড়া শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে নির্মাণকারীদের। আগামী দিনে এই স্বচ্ছতা ও কড়াকড়ি বজায় রাখাই পুরনিগমের প্রধান লক্ষ্য।