ফের রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য! মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হানায় দাউদাউ জ্বলছে তেল ট্যাংকার, জখম বহু

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠোর। মঙ্গলবার নয়াদিল্লি তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের ডেপুটি চিফ অফ মিশন মোহাম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই আক্রমণের ব্যাখ্যা চেয়েছে। ভারত স্পষ্ট করেছে যে, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং এর দায়ভার ইরানকেই নিতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করার সময় ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়াহ’ নামক দুটি তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় ‘মোম্বাসা’ জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এছাড়াও হামলায় আরও আটজন নাবিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। হামলা পরবর্তী ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করেছে।
এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার নতুন করে দানা বাঁধা যুদ্ধাবস্থা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়। সেই হামলার পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই ইরান কৌশলগতভাবে বাহরাইন, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। এই উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকেও দায়ী করা হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর অবরোধ আরোপ করছে। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনই আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং সংবেদনশীল সমুদ্রপথ। এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত সরকার এখন পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে, ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লি তৎপর হয়েছে। ইরানকে তলব করার মাধ্যমেই ভারত বুঝিয়ে দিল যে, তাদের নাগরিকদের ওপর এই ধরণের আক্রমণ ভারত সরকার হালকাভাবে দেখছে না। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি কতদূর গড়ায় এবং আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা দেখার অপেক্ষায়।