৩ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ, বিচার চেয়ে মিলল জরিমানা ও মাংস-মদের পার্টি! ঝাড়খণ্ডে পঞ্চায়েতের নির্লজ্জতা

ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলায় তিন বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় পঞ্চায়েতের যে অমানবিক ও নির্লজ্জ ভূমিকা সামনে এসেছে, তা মানবিকতাকে চরম অপমানিত করেছে। গুমলা জেলার ঘাঘরা থানা এলাকার একটি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার সন্ধ্যায় পাড়ার বাসিন্দা সুনীল লোহারা নামে এক ব্যক্তি মেয়েটির মাকে কাজে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করে। মা যখন অন্য কাজে ব্যস্ত, তখন প্রতিবেশী সুনীল ওই শিশুকন্যাকে কৌশলে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে। রক্তে ভেজা অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে এলে এই পৈশাচিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এক চরম ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। অভিযুক্তকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার বদলে পঞ্চায়েত একটি তথাকথিত ‘সভা’ ডাকে। আশ্চর্যজনকভাবে, সেখানে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচারের বদলে অভিযুক্তের ওপর মাত্র ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই লজ্জার চূড়ান্ত সীমা এখানেই শেষ হয়নি; অভিযুক্ত সুনীল পঞ্চায়েতের মোড়লদের ২০ হাজার টাকা উৎকোচ প্রদান করে, যা দিয়ে পঞ্চায়েত সদস্যরা ওই একই রাতে খাসির মাংস ও মদের পার্টির আয়োজন করে। আইনের শাসনের মুখে এটি এক চরম চপেটাঘাত।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গ্রামের সচেতন কিছু মানুষ ঘাঘরা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশের তৎপরতায় ধর্ষণকারী সুনীল লোহারাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ এখানেই থেমে থাকেনি। গুমলা জেলার পুলিশ সুপার হারিস বিন জামা এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় জড়িত প্রত্যেকটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত শুরু করেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠিত হয়েছে, যারা পঞ্চায়েত সদস্যদের এই ষড়যন্ত্রের গভীরে প্রবেশ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুকন্যাটিকে প্রথমে একজন বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু পুলিশের হস্তক্ষেপের পর তাকে আইনি ও চিকিৎসা সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। ঘাঘরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহন কুমার জানিয়েছেন, নির্যাতিতার মায়ের জবানবন্দির ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের পাশাপাশি, যারা এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অর্থের লেনদেনে অংশ নিয়েছিল এবং পার্টির আয়োজন করেছিল, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনাটি কেবল একটি ধর্ষণের অপরাধ নয়, বরং একটি অশুভ সামাজিক মানসিকতার প্রতিফলন, যেখানে অপরাধীর বিচার না করে তাকে অর্থের বিনিময়ে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এখন সারা দেশ সোচ্চার, আর জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, দোষী ও তাদের মদতদাতারা কেউই আইনের হাত থেকে নিস্তার পাবে না। ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় এখন পুরো গুমলা জেলা।