সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস আর বহিরাগতদের আনাগোনা! কানহাইয়ার রহস্যমৃত্যুতে কি জড়িত স্ত্রী? পর্দাফাঁস করল পুলিশ

বিহারের ভাগলপুর জেলায় এক ২২ বছর বয়সী যুবকের রহস্যময় মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গণোল সিংপুর পশ্চিম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষ্ণ ঠাকুর, যিনি কানহাইয়া ঠাকুর নামেও পরিচিত, তাঁর মৃতদেহ সোমবার সকালে বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর ধরন দেখে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে নিহতের পরিবার। কানহাইয়ার ডান চোখে ধারালো বস্তুর আঘাতের চিহ্ন থাকায় এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানহাইয়া দীর্ঘদিন কানপুরে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১০ দিন আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফেরেন। রবিবারই তাঁর কাজে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে মঙ্গলবার রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করেন। রবিবার দুপুর পর্যন্ত সব স্বাভাবিকই ছিল। এমনকী, স্ত্রী লক্ষ্মী কুমারীর সাথে তিনি রাতে খাবার খান এবং একে অপরের হাতে ও পায়ে লাল আলতা পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তের আনন্দ আর রাতের তিক্ত ঝগড়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল সামান্যই। এরপরই কানহাইয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। সোমবার ভোরে তাঁর মা গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে বাঁশঝাড়ে ছেলের নিথর দেহ ঝুলতে দেখেন।

পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে। হেডকোয়ার্টার্সের ডিএসপি মনোজ কুমার এবং এফএসএল দল ইতিমধ্যেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশের নজরে রয়েছে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর দিক। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কানহাইয়ার অনুপস্থিতিতে বা তাঁর অগোচরে প্রায়ই বেশ কিছু বহিরাগত ওই বাড়িতে আসত এবং স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করত, যা কানহাইয়া একেবারেই পছন্দ করতেন না। পুলিশ এই বিশেষ দিকটিকে তদন্তের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছে।

তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লক্ষ্মী কুমারীর সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি। লক্ষ্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং নিয়মিত রিল ভিডিও তৈরি করতেন। পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে এবং কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কার সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এটি লক্ষ্মীর দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল বেগুসরাইতে, কিন্তু প্রথম স্বামীর অসুস্থতার পর কানহাইয়ার সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, কানহাইয়াকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়, এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য দেহটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এসডিপিও অনিকেত অমর জানিয়েছেন যে, মৃতার পরিবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশের বিশেষ দল এখন ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং এফএসএল প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে। কানহাইয়ার মৃত্যু কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি কোনো সম্পর্কের পরিণতি, নাকি কোনো পারিবারিক প্রতিহিংসা—সেটাই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।