স্কুলের খাবারে কেন বিস্কুট? তুতিকোরিনে সরকারি জলখাবার নিয়ে গাফিলতিতে কড়া বার্তা প্রশাসনের!

স্কুলে পড়ুয়াদের সকালের পুষ্টিকর জলখাবার দেওয়ার সরকারি প্রকল্পে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ সামনে এল। তুতিকোরিন জেলার ভিলাথিকুলাম শহরের পঞ্চায়েত ইউনিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের সকালের নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবার না দিয়ে বিস্কুট দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য রাজ্যের সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের জন্য জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশিকা।

সমাজ কল্যাণ অধিকর্তার জারি করা একটি সরকারি চিঠি অনুযায়ী, গত ১৯ জুন ভিলাথিকুলামের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের সকালের জলখাবারের পরিবর্তে কেবল বিস্কুট খেতে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, রাজ্যের পড়ুয়াদের অপুষ্টি দূর করা, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং ক্লাসে মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। রাজ্যের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতে পড়ুয়ারা নিয়মিত গরম ও পুষ্টিকর খাবার পায়, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। অথচ, সেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রাথমিক স্তরেই এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষা দফতর নির্দেশ দিয়েছে, স্কুলের প্রতিটি পড়ুয়া যাতে রোজ নিয়ম মেনে ভালো মানের ও পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার পায়, তা প্রধান শিক্ষককেই নিশ্চিত করতে হবে। শুধু খাবার জোগান দেওয়াই নয়, পড়ুয়ারা সেই খাবার সঠিকভাবে খাচ্ছে কি না, সেদিকেও নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে শিক্ষকদের। প্রশাসনিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের এই কল্যাণমূলক প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো। তাই কোনো অছিলাতেই খাদ্য সামগ্রীর জোগান ও গুণমান নিয়ে কোনো সমঝোতা করা চলবে না।

রাজ্যের সমস্ত জেলার প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকদের এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন ব্লক স্তরের শিক্ষা আধিকারিকদের মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে এই বার্তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রশাসনের সাফ বার্তা—সরকারি প্রকল্পে গাফিলতি বা পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করা হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

সরকারের এই কড়া অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন অভিভাবকরা। তাঁরা মনে করছেন, সরকারি প্রকল্পের সুফল যাতে একেবারে শেষ প্রান্তের পড়ুয়ার কাছে পৌঁছায়, তার জন্য এই ধরনের নজরদারি খুবই জরুরি। তুতিকোরিনের এই ঘটনার পর থেকে এখন প্রতিটি স্কুলের ওপর প্রশাসনের বিশেষ নজর থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষার পাশাপাশি পড়ুয়াদের পুষ্টির নিশ্চয়তা দিতে রাজ্য সরকার যে অত্যন্ত তৎপর, এই নির্দেশিকা তারই প্রতিফলন।