অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে বড় আপডেট! ১৫ তারিখের মধ্যেই বদলাবে স্ট্যাটাস, কবে ঢুকবে ৩ হাজার টাকা?

রাজ্যের জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তৃতীয় কিস্তির টাকা পাওয়া নিয়ে উপভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও জল্পনা তুঙ্গে। ১ জুলাই অনেক যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা না পৌঁছানোয় শোরগোল পড়ে যায়। বহু মহিলার আবেদনের স্ট্যাটাস এখনও ‘Under Enquiry’ হয়ে রয়েছে। তবে এবার এই জটিলতা কাটাতে চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা করল প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ভেরিফিকেশনের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ১০ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে পোর্টালে সমস্ত তথ্য আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আগামীকালের মধ্যেই বহু উপভোক্তার স্ট্যাটাস পরিবর্তিত হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মমতা সরকারের আমলের জনপ্রিয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধারাবাহিকতায় এই নতুন প্রকল্প মহিলাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সফলভাবে প্রদানের পর এবার তৃতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সরকার। তবে এবারের টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

কেন টাকা আটকে থাকছে বা কারা পেতে চলেছেন এই সুবিধা? সরকারি সূত্রের খবর, শুধুমাত্র যোগ্যরাই যাতে এই ভাতার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা। আবেদনের সময় ভুল নথি জমা দেওয়া, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক না থাকা বা ডিবিটি (DBT) সক্রিয় না থাকলে উপভোক্তার আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নিয়ম অনুযায়ী সেই আবেদনকারী ভাতার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত তথ্য যাচাই করে আপলোড করা হলেই পরবর্তী ধাপে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাই স্ট্যাটাস ‘Under Enquiry’ থাকলেও আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপভোক্তারা নিয়মিত প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টাল চেক করতে পারেন। যদি আপনার নথিতে কোনো ভুল না থাকে এবং আপনি প্রকল্পের সমস্ত শর্ত পূরণ করেন, তবে আগামী ১৫ তারিখের পর নতুন স্ট্যাটাস আপডেট হওয়ার সাথে সাথেই আপনার টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে।

এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি আসলে স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি অংশ। অযোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রকৃত অভাবী মহিলাদের হাতেই যাতে এই ৩ হাজার টাকা পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো আপস করতে রাজি নয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই তৃতীয় কিস্তি নিয়ে কোনো আপডেট বা বিভ্রান্তি এড়াতে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন। খুব শীঘ্রই আপনার স্ট্যাটাস বদলাতে চলেছে, তাই প্রয়োজনীয় নথি বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত রাখুন।