ভারত-নেপাল সীমান্তে পাকড়াও মার্কিন নাগরিক! ব্যাগে মিলল চিনা পাসপোর্ট ও রহস্যময় যন্ত্র, বড়সড় নাশকতার ছক?

ভারত-নেপাল সীমান্তে এক মার্কিন নাগরিকের আটক হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার উত্তরপ্রদেশের সোনৌলি সীমান্তে এসএসবি (SSB) জওয়ানদের হাতে ধরা পড়েন ৩৬ বছর বয়সী জর্ডন ব্রাউন। নিজেকে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা বলে দাবি করলেও, তাঁর গতিবিধি এবং সঙ্গে থাকা নথিপত্র তদন্তকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার মেইনহোয়া এলাকায়। নিয়মমাফিক টহলদারি চলাকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে পড়ে এক ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। জওয়ানরা তাঁকে বাধা দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু পিছু ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলা হয়। মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন দাবি করেছেন, থাইল্যান্ডে পর্যটক হিসেবে থাকাকালীন তিনি তাঁর আসল পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেন। এরপরই তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কা হয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে ভারতে প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গোয়ায় আত্মগোপন করেছিলেন।

এই ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। একজন মার্কিন নাগরিকের কাছ থেকে চিনা পাসপোর্ট, একটি এআই (AI) অনুবাদক যন্ত্র, বিপুল পরিমাণ নেপালি মুদ্রা, কিছু অদ্ভুত ধর্মীয় বই এবং একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন একজন মার্কিনি চিনা পাসপোর্ট বহন করছিলেন? এআই অনুবাদক যন্ত্রটি দিয়ে তিনি কী করছিলেন? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে যে, নথিপত্রহীন ভাবে ভারতে প্রবেশের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের হাত রয়েছে কি না।

সোনৌলি থানায় ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশন ও ফরেনার্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি সরাসরি কোনো দেশবিরোধী কার্যকলাপের সাথে যুক্ত কি না, তার কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে তাঁর দাবিগুলো অত্যন্ত অসংলগ্ন। তাঁর দেওয়া তথ্যগুলো ক্রমানুসারে সাজিয়ে যাচাই করার কাজ চলছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মার্কিন দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করার কথা ভাবছে ভারতীয় প্রশাসন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-নেপাল সীমান্ত বর্তমান সময়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই সীমান্তে নথিপত্রহীন বিদেশির ঘোরাফেরা শুধু ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। জর্ডন ব্রাউনের এই অদ্ভুত সফরসূচির আড়ালে কোনো বড়সড় নাশকতার ছক রয়েছে কি না, তা জানতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাকে দফায় দফায় জেরা করছে। ওই ডায়েরি এবং চিনা পাসপোর্টের রহস্য উদ্ঘাটনই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।