বন্ধ হচ্ছে বক্সার লেপচাখায় রাত্রিযাপন? পর্যটকদের ভিড় আটকাতে বড় পদক্ষেপ

ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম আকর্ষণ বক্সা পাহাড়ের মায়াবী গ্রাম ‘লেপচাখা’। মেঘের কোলে ঘেরা এই গ্রামে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা নিতে প্রতি বছর ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। কিন্তু সেই স্বর্গীয় অভিজ্ঞতায় এবার ইতি টানতে চলেছে বন দপ্তর। সূত্রের খবর, পরিবেশ আদালত ও বন্যপ্রাণ সুরক্ষার স্বার্থে লেপচাখায় পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত? বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক শীর্ষ বনকর্তা জানিয়েছেন, লেপচাখা গ্রামটি বক্সা টাইগার রিজার্ভের অতি সংবেদনশীল ‘কোর এরিয়া’র অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় পরিবেশ আদালতের গাইডলাইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল এলাকায় পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অনুমতি নেই। এতদিন এটি কার্যকর না হলেও, বক্সা অরণ্যে নতুন করে বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনার কারণে এখন সুরক্ষায় কোনো খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং বন্যপ্রাণের স্বাভাবিক বিচরণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
নতুন নিয়ম কী? বন দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী:
পর্যটকরা দিনের বেলায় লেপচাখায় গিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
তবে বিকেলের মধ্যেই তাদের পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসতে হবে।
শুধু লেপচাখা নয়, একই নিয়ম জয়ন্তী গ্রামের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে বলে বন দপ্তর সূত্রে খবর।
সংকটে স্থানীয় অর্থনীতি: বন দপ্তরের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া নেমেছে। লেপচাখার অধিকাংশ মানুষের রুটি-রুজি এই হোমস্টে ও পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় হোমস্টে মালিক পিনছো ডুকপা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে এখনো কোনো নির্দেশিকা তাদের হাতে আসেনি। নির্দেশিকা জারি হলে গ্রামবাসীরা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।
বেআইনি নির্মাণ ও নজরদারি: সূত্রের খবর, পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর কড়াকড়ি করার আগে এলাকাটিকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে চাইছে বন বিভাগ। পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষা করতে সেখানে পাকা ও কংক্রিটের নির্মাণে আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন দপ্তরের অভিযোগ, পর্যটন ব্যবসার আড়ালে সেখানে নিয়ম ভেঙে বহু বহিরাগত এসে ঘাঁটি গেড়েছে এবং বেআইনিভাবে বহুতল তৈরির চেষ্টা করছে। গত শুক্রবারও বনকর্মীরা গ্রামে টহল দিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় বন দপ্তরের এই কঠোর অবস্থান পাহাড়ের পর্যটন অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।