এখনও বিয়ে করার ইচ্ছে আছে? মঞ্চে আবীরের প্রশ্নে যা বললেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক নক্ষত্র সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি আর্টিস্টস ফোরাম আয়োজিত ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ অনুষ্ঠানে এক অন্য সাবিত্রীকে দেখল দর্শক। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর প্রাণখোলা আড্ডায় এদিন মঞ্চ ছিল সরগরম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন দুই জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায় এবং যিশু সেনগুপ্ত। এক পর্যায়ে আবীর চট্টোপাধ্যায় প্রবীণ অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করেন, “তুমি তো ক’দিন আগেই এক অনুষ্ঠানে বলেছিলে তোমার এখনও বিয়ে করার ইচ্ছে আছে, কথাটা কি সত্যি?”
আবীর চট্টোপাধ্যায়ের এই সরাসরি প্রশ্নে এক মুহূর্তের জন্য যেন সবাই চুপ হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরের মুহূর্তেই সাবিত্রীর তাৎক্ষণিক উত্তরে মঞ্চ জুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে চটজলদি উত্তর দেন, “নিশ্চয়ই আছে। আমার বিয়ের ইচ্ছে থাকবে না কেন? আমার তো এখনও বিয়েই হয়নি!” বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর এই রসবোধে মুগ্ধ হয়ে যিশু সেনগুপ্ত তৎক্ষণাৎ উপস্থিত দর্শকদের আহ্বান জানান, সাবিত্রীর এই সপ্রতিভ উত্তরকে হাততালির মাধ্যমে সম্মান জানানোর জন্য।
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় শুধু বিয়ে নিয়েই কথা বলেননি, বরং এদিন তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনের লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জীবনে ভালো-মন্দ সবই দেখেছি। কখনও হেঁটেছি অন্ধকার পথ দিয়ে, আবার কখনও আলোয়। আজকের এই মঞ্চ ইট-কাঠ-পাথর দিয়ে তৈরি নয়, বরং আপনাদের ভালোবাসা আর শুভেচ্ছায় তৈরি।” আর্টিস্টস ফোরামের দেওয়া এই সম্মান ও ভালোবাসায় তিনি যে অত্যন্ত আপ্লুত, তা তাঁর কণ্ঠস্বরে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।
আর্টিস্টস ফোরামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে যিশু সেনগুপ্ত মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন যে, আজ প্রায় ৪,০০০ সদস্যকে নিয়ে এই ফোরাম তাঁদের পথচলা অব্যাহত রেখেছে। এই চার হাজার শিল্পীর মধ্যে কেউ কেউ নিয়মিত ধারাবাহিকে বা বড় পর্দায় কাজ করছেন, আবার কেউ পরিস্থিতির চাপে বর্তমানে কাজ থেকে দূরে রয়েছেন। তবে তাঁদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে আর্টিস্টস ফোরাম।
এই আয়োজনের গুরুত্ব এবং বর্ষীয়ান শিল্পীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে, বর্ষীয়ান শিল্পীদের এই সম্মানজ্ঞাপন অনুষ্ঠান এক আবেগময় ও স্মরণীয় সন্ধ্যায় পরিণত হয়েছিল।