আইআইটির মর্যাদা পেতে চলেছে শিবপুরের আইআইইএসটি! বাংলার প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত?

পশ্চিমবঙ্গের গর্ব, ঐতিহ্যের ধারক শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইইএসটি)-কে এবার আইআইটি (IIT)-র মর্যাদা দেওয়ার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিকাশ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ইস্যুটি উঠে আসে। রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, আইআইইএসটির দীর্ঘদিনের গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং গবেষণার ক্ষেত্রকে বিশ্বমানের করতে এই স্বীকৃতি অত্যন্ত জরুরি।
বৈঠক শেষে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এক সময় এই প্রতিষ্ঠানটি (তৎকালীন বেসু) আইআইটি হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। আনন্দকৃষ্ণন কমিটির রিপোর্টেও এই সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, পূর্বতন সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আইআইইএসটি হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর অনেক সময়ই এর ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু পরিকাঠামো, বিশাল ক্যাম্পাস এবং ঐতিহ্যের নিরিখে আইআইইএসটি দেশের অনেক নতুন আইআইটির তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ।”
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, আইআইটির তকমা পাওয়া মানে কেবল নামবদল নয়, এটি গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। তাঁর কথায়, “আইআইটির স্বীকৃতি পেলে বিশ্বমানের শিক্ষক, মেধাবী শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসবে। শিল্প সংস্থাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।”
রাজ্য সরকারের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, “রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রাজ্যের আগ্রহের কথা আমরা জানতে পেরেছি। প্রস্তাব এলে নিয়ম মেনে এবং যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।”
শিক্ষা মহলের মতে, শিবপুরের এই প্রতিষ্ঠানটির আইআইটি হওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটি যদি আইআইটির সমতুল্য মর্যাদা পায়, তবে তা কেবল রাজ্যের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রই বদলে দেবে না, বরং বাংলার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের এবং গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে। এখন রাজ্য সরকার দ্রুততার সঙ্গে কতদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয় এবং কেন্দ্র তাতে কীভাবে সাড়া দেয়, সেটাই দেখার।