৫০০ টাকা তুলতে গিয়ে চোখ কপালে! অ্যাকাউন্টে ৭৫৯ কোটি টাকা দেখে অবাক ছাত্র

টাকা তোলার জন্য এটিএম-এ গিয়ে ব্যালেন্স চেক করতেই চক্ষু চড়কগাছ! অ্যাকাউন্টে ভেসে উঠছে ৭৫৯ কোটি টাকারও বেশি ব্যালেন্স। শুনতে রূপকথার গল্পের মতো মনে হলেও, বাস্তবে কোচবিহারে ঠিক এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন দুই ব্যক্তি। একজনের চপ-কাটলেটের ছোট দোকান, অন্যজন ক্লাস টেনের ছাত্র। দুই ভিন্ন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে একই বিপুল পরিমাণ টাকা দেখে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনা ১: তাকোয়ারমারির চপ বিক্রেতা রবিবার তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের তাকোয়ামারি এলাকার বাসিন্দা সুকুমার অধিকারী ৫০০ টাকা তোলার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকেন। টাকা তোলার পর ব্যালেন্স চেক করতেই দেখেন সেখানে জমা রয়েছে ৭৫৯,৬৯,৫১,৯৫১ টাকা! চপ বিক্রেতা সুকুমার জানান, দিন আনা দিন খাওয়া সংসার তাঁর। এত বিপুল টাকা দেখে তিনি আতঙ্কিত। পরিচিতরা কেউ চুপ করে থাকার পরামর্শ দিলেও, সুকুমারবাবু পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনা ২: দিনহাটার স্কুল ছাত্র ঘটনার এখানেই শেষ নয়। প্রায় একই সময় দিনহাটার এক দশম শ্রেণীর ছাত্রও নিজের স্কলারশিপের টাকা তুলতে গিয়ে একই কাণ্ড দেখেন। তাঁর অ্যাকাউন্টেও ৭৫৯ কোটিরও বেশি টাকা দেখাচ্ছিল। দুশ্চিন্তায় ওই ছাত্রও দ্রুত দিনহাটা থানায় গিয়ে পুলিশকে সবটা জানায়।
রহস্য কোথায়? পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, এটি নিছকই ব্যাঙ্কের সার্ভার বা প্রযুক্তিগত কোনো বড় ত্রুটি। তবে দুই ভিন্ন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে প্রায় একই অঙ্কের টাকা দেখানোয় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদিও ব্যাঙ্ক বা পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—সফটওয়্যারের এই ত্রুটি কীভাবে সাধারণ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে?
যাই হোক, ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এই টাকার ওপর তাঁদের কোনো অধিকার নেই এবং তাঁরা বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে অবগত করেছেন। আপাতত এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।