‘দোষীকে বাঁচালেই আপনিও অপরাধী!’ খুদে পড়ুয়ার শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে রণক্ষেত্র মেদিনীপুরের স্কুল

‘যে অপরাধ করে সে যেমন দোষী, যে অপরাধীকে বাঁচায় সেও সমান দোষী’—এই স্লোগান তুলেই সোমবার সকাল থেকে মেদিনীপুরের এক স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সামনে উত্তাল বিক্ষোভ শুরু করলেন অভিভাবকরা। স্কুলের এক খুদে পড়ুয়ার শ্লীলতাহানির ঘটনায় প্রিন্সিপালের উদাসীনতা ও নীরবতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তাঁরা। খুদে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রিন্সিপালের অপসারণ ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। মেদিনীপুরের ওই নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে এক অস্থায়ী কর্মী যৌন হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শিশুর পরিবার ভেঙে পড়ে। দ্রুত পুলিশের হেল্পলাইন এবং কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানানো হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শনিবার ধৃতকে জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে তিনদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও অভিভাবকদের ক্ষোভ কমেনি। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনার পরেও প্রিন্সিপালের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত রহস্যময়। তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করেছেন এবং সব জেনেও চুপ থেকেছেন। সোমবার অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন। স্কুলের গেটের সামনে অবস্থানে বসে তাঁরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান তোলেন। অভিভাবক শঙ্করী সামন্তের অভিযোগ, “এই জঘন্য ঘটনার দায় প্রিন্সিপাল এড়াতে পারেন না। তিনি কেন চুপ ছিলেন? আমরা চাই তাঁর কঠোর শাস্তি ও অবিলম্বে অপসারণ।” আরেক অভিভাবক সুপর্ণা চক্রবর্তীর কথায়, “আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা এই স্কুলে পড়ে। তাদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। প্রিন্সিপালকে আমাদের সামনে এসে জবাব দিতে হবে।”
এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, “অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তদন্ত চলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলের প্রতিটা শৌচাগারের প্রবেশপথে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। পাশাপাশি, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাইকরণ এবং পড়ুয়া ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীদের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের এই প্রতিবাদ কেবল প্রিন্সিপালের অপসারণের দাবিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে এক গভীর উদ্বেগ। একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের চারদেয়ালের ভেতরে যখন খুদে পড়ুয়াদের সুরক্ষা বিঘ্নিত হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এখন দেখার, পুলিশি তদন্ত এবং অভিভাবকদের এই আন্দোলনের চাপে স্কুল কর্তৃপক্ষ কতটা কঠোর অবস্থান নেয়। আপাতত মেদিনীপুরের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা, আর বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে সরব হয়েছে অভিভাবক মহল।