হোস্টেলে কারাতে শিক্ষকের লালসা! সার্ভে পার্কে নাবালিকাকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ধৃত প্রসেনজিৎ

কলকাতার সার্ভে পার্ক এলাকায় এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে প্রসেনজিৎ দাস নামের এক কারাতে প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। রবীন্দ্র সরোবর থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার তাকে আলিপুর পকসো আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, সার্ভে পার্ক এলাকার একটি এনজিও পরিচালিত হোস্টেলে ওই নাবালিকা থাকত। সেখানেই কারাতে শিখতে গিয়ে প্রসেনজিৎ দাসের লালসার শিকার হয় সে। অভিযোগ, গত বছর জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত একাধিকবার কারাতে প্রশিক্ষক নাবালিকাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করে। বিষয়টি চেপে রাখার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ এই নিগ্রহের ফলে নাবালিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে এনজিও কর্তৃপক্ষের কাছে নাবালিকা পুরো ঘটনাটি খুলে বললে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শিশু কল্যাণ সমিতির (CWC) হস্তক্ষেপে নাবালিকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে হোমে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর নাবালিকার এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ প্রথমে জিরো এফআইআর (Zero FIR) দায়ের করে এবং পরবর্তীতে তদন্তের জন্য মামলাটি সার্ভে পার্ক থানায় স্থানান্তর করে। অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ।
এই ঘটনার জেরে রাজ্যে নাবালিকাদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বারুইপুরের ঘটনার রেশ এখনও টাটকা। বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। ধপধপি-২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাটে পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নেমে আনন্দ সরদার নামে একজনকে গ্রেফতার করে এবং এনকাউন্টারে অপর এক অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়। একের পর এক এমন ঘটনায় অভিভাবক মহলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সার্ভে পার্কের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এনজিও-র ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। হোস্টেলে থাকার সময় কিভাবে একজন বহিরাগত প্রশিক্ষক বছরের পর বছর ধরে এক নাবালিকাকে নির্যাতন করার সুযোগ পেল, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, পকসো আইনে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সরব হয়েছে। নাবালিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোস্টেল ও হোমগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে।