ইন্সটাগ্রামে শিশু যৌন শোষণের বিজ্ঞাপন, মেটার উত্তরের পর নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র, বড় পদক্ষেপের পথে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ

ইনস্টাগ্রামের প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন শোষণ (CSAM) সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যেই বড় আপডেট এল কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক থেকে। সোমবার ১৩ই জুলাই, তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান জানিয়েছেন যে, সরকারের জারি করা কড়া নোটিশের জবাব জমা দিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ। উত্তরের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এখন চলছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে এমন সব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে ‘চাইল্ড ভিডিও’র মতো শব্দ ব্যবহার করে সরাসরি শিশু পর্নোগ্রাফির দিকে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে দেওয়া টেলিগ্রাম লিঙ্কে ক্লিক করলেই মাত্র ৯৯ রুপির বিনিময়ে প্রকাশ্যে মিলছে অশ্লীল ভিডিও ও ছবি। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) তড়িঘড়ি ইনস্টাগ্রামকে শোকজ নোটিশ পাঠায়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, অবিলম্বে এই ধরনের সমস্ত বিতর্কিত বিজ্ঞাপন ও বিষয়বস্তু প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং এই গুরুতর ত্রুটির ব্যাখ্যা দিতে হবে। গত শনিবার ছিল জবাব দেওয়ার শেষ দিন। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব জানান, শনিবারই মেটা তাদের উত্তর জমা দিয়েছে।

এদিকে সরকারি নোটিশ পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মেটা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্লগে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা দাবি করেছে, এই ধরনের ঘৃণ্য বিষয়বস্তু মোকাবিলায় তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। মেটার ভাষ্যমতে, তারা তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষিত রাখতে এবং বিজ্ঞাপন পর্যালোচনা প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। তবে মেটার এই দাবির ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছে না সরকার।

তদন্তাধীন এই বিষয়টি নিয়ে এস. কৃষ্ণান বলেন, “আমরা মেটার উত্তর পেয়েছি। এখন আমরা সেটি বিশদভাবে খতিয়ে দেখছি। সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখছে।” সরকারি সূত্রের মতে, তদন্তের পর যদি প্রমাণিত হয় যে মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে এই ধরণের ঘৃণ্য অপরাধের প্রচার ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে এ ধরণের জঘন্য বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি ডিজিটাল সুরক্ষায় একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এখন কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।