কলকাতা লিগ জয়ের লক্ষ্যে মোহনবাগান! নতুন কোচ বাস্তবের হাত ধরে মাঠে নামছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে মোহনবাগানের অভিযান। প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ পাঠচক্র। এবারের প্রতিযোগিতায় ট্রফি জেতার লক্ষ্য নিয়ে কোচ বাস্তব রায়ের অধীনে শক্তিশালী দল গড়েছে সবুজ-মেরুন শিবির। সিনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে গড়া এই দল ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে।
নেতৃত্বে অভিনব পরীক্ষা:
ম্যাচের আগে এক অভিনব সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে মোহনবাগান। পুরো মরশুমের জন্য নেতৃত্বের দায়িত্ব চার ফুটবলারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কিয়ান নাসিরি, অভিষেক সূর্যবংশী, সুহেল ভাট এবং দীপেন্দু বিশ্বাস—পর্যায়ক্রমে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কিয়ান নাসিরিই থাকছেন দলের মূল অধিনায়ক। কোচ বাস্তব রায়ের মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ফুটবলারদের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এবং নেতৃত্বের চাপ ভাগ করে নেওয়া।
কোচের রণনীতি:
কোচ বাস্তব রায় জানিয়েছেন, কাগজ-কলমে দল শক্তিশালী হলেও, মাঠের পারফরম্যান্সই আসল। প্রতিটি ম্যাচকেই তাঁরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের কলকাতা লিগকে অন্যভাবে ব্যবহার করছে মোহনবাগান। প্রথম দলের একাধিক ফুটবলারকে নিয়মিত খেলার সুযোগ করে দিতেই তাঁদের লিগ দলে রাখা হয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার সুযোগ না পাওয়া ফুটবলারদের ম্যাচ-ফিট করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
সায়নের নতুন ইনিংস:
এবারের মোহনবাগান দলের অন্যতম আকর্ষণ তরুণ তুর্কি সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে খেলা সায়ন এবার যোগ দিয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানে। তবে এই দল বদল নিয়ে কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করছেন না তিনি। সায়ন বলেন, “পেশাদার ফুটবলে দল বদল খুবই স্বাভাবিক। আমার লক্ষ্য মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়া।” গোল করা বা গোল করানোর পাশাপাশি সিনিয়র দলে নিজের জায়গা পাকা করাই তাঁর এখন লক্ষ্য। এছাড়া শুভাশিস বোসের মতো সিনিয়রদের থেকে পরামর্শ পেয়ে তিনি যথেষ্ট অনুপ্রাণিত।
লিগের সার্বিক চিত্র:
কলকাতা লিগ ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতিও তুঙ্গে। ডায়মন্ড হারবার এফসি নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও, সুরুচি সংঘের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি সুন্দরভাবে শুরু করার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আয়োজকরা। সব মিলিয়ে, সোমবারের উদ্বোধনী ম্যাচে পাঠচক্রের বিরুদ্ধে মোহনবাগান কতটা দাপট দেখাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।