‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত তারকা স্যাম নিল আর নেই! ৭৮ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন হলিউডের এই কিংবদন্তি

নব্বইয়ের দশকের সেই শিহরণ জাগানো সিনেমা ‘জুরাসিক পার্ক’। বিশালাকার ডাইনোসরের তাণ্ডব আর সেই বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সাহসী প্রত্নতাত্ত্বিক ডঃ অ্যালান গ্রান্ট—এই চরিত্রের মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন স্যাম নিল। সেই কিংবদন্তি হলিউড অভিনেতা ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতে।
চিরবিদায়ের করুণ কাহিনী:
অভিনেতার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পরিবার। ১৩ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। পরিবার জানিয়েছে, শেষ সময়ে তিনি তাঁর প্রিয়জনদের সান্নিধ্যেই ছিলেন। মৃত্যু হঠাৎ এলেও, তিনি আজীবন যে মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সেই ভাবমূর্তি বজায় রেখেই তিনি বিদায় নিলেন।
অভিনয় জীবনের স্বর্ণালী সফর:
নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা কেবল হলিউডেই নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজের এক আলাদা উচ্চতা তৈরি করেছিলেন। ‘জুরাসিক পার্ক’ ছাড়াও ‘দ্য পিয়ানো’, ‘ডেড ক্যাল্ম’, এবং ‘ইন দ্য মাউথ অফ ম্যাডনেস’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন। সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও তিনি রেখে গেছেন প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই:
জীবনের শেষ কয়েক বছর খুব একটা স্বস্তিতে কাটেনি স্যাম নিলের। ২০২২ সালে তাঁর শরীরে ধরা পড়েছিল বিরল রোগ ‘অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমা’। কিন্তু অদম্য এই মানুষটি লড়াই ছাড়েননি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক কার-টি (CAR-T) সেল থেরাপির সাহায্যে চলতি বছর তিনি ক্যানসারমুক্তও হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ইমিউনোথেরাপির এই বিশেষ পদ্ধতিতে রোগীর শরীরের টি-কোষকে পরিবর্তন করে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। ভারতেও বর্তমানে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নতির ফলে খরচ অনেকটা কমে এসেছে, যা অনেক আশার আলো দেখাচ্ছিল।
মৃত্যুভয়হীন এক যোদ্ধা:
ক্যানসার জয়ের পর স্যাম নিল একাধিকবার জানিয়েছিলেন, মৃত্যু নিয়ে তাঁর বিশেষ কোনো ভয় নেই। বরং তাঁর জীবনের অনেকটা পথ চলা বাকি ছিল, অনেক কাজ বাকি ছিল। তবে নিয়তির অমোঘ টানে সেই সফর অসমাপ্ত রেখেই তিনি চলে গেলেন। অভিনয়, শিল্পকলা এবং অগণিত দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসায় ভরা এক বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল ১৩ জুলাই। পর্দার সেই ডঃ অ্যালান গ্রান্ট আর নেই, কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো অমর হয়ে রয়ে যাবে সিনেমা প্রেমীদের হৃদয়ে।