টাকা নেই তো বাস থেকে নামুন! মন্ত্রীর পরিচয় গোপন করে বাসে চড়তেই জুটল কড়া ধমক

নিত্যযাত্রীদের কাছে বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের পথে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনার নাম ‘খুচরো সংকট’। প্রতিদিন অটোচালক বা বাস কন্ডাক্টরের সঙ্গে যাত্রীদের বচসা এখন জলভাত। তবে আমজনতার এই প্রতিদিনের লড়াইয়ের স্বরূপ কতটা ভয়াবহ, তা এবার স্বয়ং টের পেলেন কর্নাটকের পরিবহণ মন্ত্রী বাইরথি সুরেশ। সাধারণ মানুষের সমস্যা নিজে খতিয়ে দেখার জন্য ছদ্মবেশে বিএমটিসি (BMTC) বাসে উঠে চরম হেনস্থার শিকার হলেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মন্ত্রী মশাই নিজের পরিচয় গোপন রাখতে মুখে মাস্ক পরে একটি বাসে ওঠেন। কন্ডাক্টর টিকিট কাটতে এলে তিনি ১০০ টাকার নোট দিয়ে দুটি টিকিট চান। কন্ডাক্টরের ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাতে খুচরো টাকার মারাত্মক অভাব। কোনো রকম রাখঢাক না করেই কন্ডাক্টর মন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দেন, যদি খুচরো টাকা না থাকে তবে যেন তিনি বাস থেকে নেমে যান। সাধারণ যাত্রীর মতোই মন্ত্রীকে বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনার পর তিনি কিছুটা বিচলিত হলেও বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেন।

পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছাতে তিনি একটি অটো-রিক্সার সাহায্য নেন। সেখানেও সুখকর অভিজ্ঞতা হয়নি তাঁর। মিটারে ৩০ টাকা ভাড়া উঠলেও অটোচালক মন্ত্রীর কাছে ৩৬ টাকা দাবি করেন। তিনি বাধ্য হয়ে ৪০ টাকাই চালককে প্রদান করেন, কিন্তু এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তিনি ভালোভাবে নেননি। পরিবহণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের এই প্রতিকূলতাগুলো স্বচক্ষে দেখতে তিনি মাত্র দুই ঘণ্টায় ১০টিরও বেশি বিএমটিসি বাসে যাতায়াত করেছেন।

অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আরও ছিল শিষ্টাচারহীনতা ও গাফিলতির অভিযোগ। একটি বাসে যাত্রীর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস দাঁড় করানো হয়নি, যা মন্ত্রীর নজর এড়ায়নি। এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য পাশের বাসে থাকা চালক ও কন্ডাক্টরকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। পরিবহণ মন্ত্রীর এই অভিনব ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ আমজনতার যন্ত্রণার কথা সরকারি মহলে পৌঁছে দিয়েছে। খুচরো সংকট দূর করতে এবং যাত্রী পরিষেবার মান উন্নয়নে খুব শীঘ্রই বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে চলেছে কর্নাটক পরিবহণ দপ্তর, এমনটাই আশা করছেন নিত্যযাত্রীরা।