ওয়েনাড়ে ভয়াবহ ভূমিধস! বিপদের দিনে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী কোথায়? তোপ বিজেপির

কেরলের ওয়েনাড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে। গত ৭ জুলাই ওয়েনাড়ে আনাক্কাম্পোইল-মেপ্পাডি টুইন-টিউব টানেল প্রকল্পে এক ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই এলাকাটি কার্যত বিপর্যস্ত। কিন্তু এই দুর্যোগের দিনেও ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে পাশে না পাওয়ায় শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। কংগ্রেস নেতৃত্বের এই ‘উদাসীনতা’কে হাতিয়ার করেই আসরে নেমেছে বিজেপি।

রবিবার বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্টে দাবি করেছেন যে, ওয়েনাড় জেলাটি গান্ধী পরিবারের কাছে কেবলমাত্র একটি ‘রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি’ মাত্র। কেশবনের অভিযোগ, বিপর্যয় ঘটার এতগুলো দিন পেরিয়ে গেলেও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী একবারের জন্যও ঘটনাস্থলে যাননি। নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানানোর ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও তিনি দেখাননি। এই ঘটনাকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চূড়ান্ত নিদর্শন বলে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির।

শুধু প্রিয়ঙ্কা গান্ধীই নন, বিজেপি মুখপাত্রের নিশানায় উঠে এসেছেন রাহুল গান্ধীও। সি আর কেশবন বলেন, রাহুল গান্ধী যখন ওয়েনাড়ের সাংসদ ছিলেন, তখনও স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ছিল যে তিনি এলাকায় খুব একটা আসতেন না এবং ভোটারদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় শূন্য ছিল। বিজেপি নেতার দাবি, লোকসভা নির্বাচনের পর রাহুল গান্ধী রায়বরেলি আসনটি ধরে রেখে ওয়েনাড়ের ভোটারদের সাথে একপ্রকার ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন। এখন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ওয়েনাড়ের মানুষের প্রতি একই ধরণের অবহেলা ও উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিজেপির এই অভিযোগকে ঘিরে ওয়েনাড়ের রাজনীতির অন্দরে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দুর্যোগের সময় জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গান্ধী পরিবার কেবল ভোটের সময়েই এই এলাকাকে মনে রাখে। বিপর্যয়ের দিনে মানুষের পাশে থাকার ক্ষেত্রে তাদের এই ব্যর্থতা আদতে ওয়েনাড়ের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবহেলারই প্রতিফলন। যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে বিজেপির এই আক্রমণকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনিক স্তরে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চললেও, রাজনৈতিক ময়দানে একে অপরকে আক্রমণ করার লড়াইয়ে বিদ্ধ হচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা।