ঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মর্মান্তিক পরিণতি! উদ্ধার ৯ মৎস্যজীবীর দেহ, এখনও নিখোঁজ ৬

কয়েকদিনের উৎকণ্ঠা, প্রার্থনা আর অনন্ত অপেক্ষার শেষে বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে এল এক হৃদয়বিদারক খবর। পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ‘জয় মা কালী’ ট্রলারটির সন্ধান মিললেও, তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৯ জন মৎস্যজীবীর নিথর দেহ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৬ জন, যা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ চরমে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুলাই, যখন ১৯ জন মৎস্যজীবী নিয়ে শঙ্করপুর বন্দর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে রওনা হয়েছিল এই ট্রলারটি। প্রথম কয়েকদিন যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলেও, ৫ জুলাইয়ের পর থেকেই ট্রলারটির সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রিয়জনদের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন পরিবারগুলো, কিন্তু ১১ দিন পর যে খবর এল, তা যেন তাদের পৃথিবীর সব আশা কেড়ে নিল।

কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বন দফতর এবং সুন্দরবন পুলিশের দীর্ঘদিনের যৌথ প্রচেষ্টায় রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে, চুলকাঠির জঙ্গলের কাছে বাঘেরচর এলাকায় ট্রলারটিকে উল্টে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্য ট্রলারের সাহায্যে সেটিকে টেনে পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরের সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। ঘাটেই ট্রলারের জল বের করতেই উদ্ধার হতে থাকে একের পর এক মৃতদেহ। বর্তমানে ৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন ওড়িশার বাসিন্দা। বাকিরা মূলত পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার।

প্রশাসনের আশঙ্কা, নিখোঁজ ৬ জন মৎস্যজীবীর দেহ ট্রলারের কোনো কোণায় আটকে থাকতে পারে অথবা সমুদ্রের জলে ভেসে গিয়ে থাকতে পারে। ট্রলারের প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা জানিয়েছেন, উদ্ধারকার্য দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে দ্রুত এই ক্ষতিপূরণের চেক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সীতারামপুর ঘাটে এখন কেবলই হাহাকার। স্বজনহারা পরিবারগুলোর আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, জীবিকার সন্ধানে সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া মৎস্যজীবীদের জীবন কতটা অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো অব্যাহত রয়েছে তল্লাশি অভিযান।