‘পুরীর রীতি না মানলে ওড়িশায় জায়গা নেই’, ইস্কনের রথযাত্রা নিয়ে তীব্র বিতর্কে কলিঙ্গ সেনা

শ্রীজগন্নাথ ধামের রথযাত্রার দিনক্ষণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন ওড়িশার রাজনীতি ও সংস্কৃতির আঙিনায় চরম উত্তাপ ছড়াচ্ছে। পুরী জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্ট ও ইস্কন (ISKCON)-এর মধ্যকার এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেল কলিঙ্গ সেনার হুঁশিয়ারিতে। জগন্নাথদেবের রথযাত্রার প্রথাগত তিথি না মেনে ভিন্ন দিনে অনুষ্ঠান আয়োজন করার অভিযোগ তুলে ইস্কনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে এই সংগঠন। তাদের সাফ বার্তা—ওড়িশার মাটিতে জগন্নাথ সংস্কৃতির অবমাননা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সম্প্রতি ভুবনেশ্বরে ইস্কন মন্দিরের সামনে কলিঙ্গ সেনার কর্মীরা প্রবল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সংগঠনের সভাপতি হেমন্ত রথ অভিযোগ করেন, পুরীর গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেব, যিনি জগন্নাথদেবের ‘প্রথম সেবায়ক’, তাঁর নির্দেশ বা শাস্ত্রীয় তিথিকে অবজ্ঞা করছে ইস্কন। কলিঙ্গ সেনার মতে, পুরীর নির্ধারিত রীতি না মেনে ইচ্ছামতো দিনে রথযাত্রা পালন করায় ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কলিঙ্গ সেনা ইস্কনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, আগামী ১৬ জুলাই পুরীর রথযাত্রায় ইস্কন সদস্যদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, ভুবনেশ্বরে ইস্কন আয়োজিত রথযাত্রাও বন্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে। হেমন্ত রথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, জগন্নাথ সংস্কৃতিকে যারা সম্মান করে না, তাদের ওড়িশায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। প্রয়োজনে রাজ্যের সমস্ত ইস্কন মন্দির ঘেরাও এবং তালাবন্দি করার হুমকিও দিয়েছে সংগঠনটি। রাজ্যের সাধারণ মানুষকেও তাদের এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইস্কন কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পুরীর রীতি মেনেই রথযাত্রা পালন করে। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় আবহাওয়া, প্রশাসনিক অনুমতি ও ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অনেক সময় বিকল্প দিন বেছে নিতে হয়। তাদের যুক্তি, জগন্নাথদেবের মহিমা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে ইস্কনের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় কলিঙ্গ সেনা। তাদের দাবি, ওড়িশার পবিত্র মাটিতে ইস্কনের কোনো বিকল্প তিথি চলবে না। রথযাত্রার ঠিক আগে এই সংঘাত ওড়িশার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাতাবরণকে বেশ অস্থির করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই পরিস্থিতি সামলাতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং দুই পক্ষের এই বিবাদ কোন দিকে মোড় নেয়।