প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি! টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে কী হবে? নয়া প্রস্তাব দিল যৌথ কমিটি

প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো মন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর যদি টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁদের মন্ত্রিত্ব যাওয়ার যে বিধান ছিল, তা নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের সুপারিশ করল সংসদীয় যৌথ কমিটি। কমিটির মতে, অপসারণ বা পদ চলে যাওয়ার বদলে সরকারি চাকুরিজীবীদের মতো ‘সাসপেনশন’ (সাময়িক বরখাস্ত) শব্দ বা পদ্ধতি ব্যবহার করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের মূল দিকগুলি: ২০২৫ সালের আগস্টে পেশ করা সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরোধিতার পর এটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। ওড়িশার বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গির নেতৃত্বাধীন সেই কমিটি এবার একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে:

  • অপসারণ নয়, সাসপেনশন: কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্রেফতার হয়ে ৩০ দিন হেফাজতে থাকলেই কাউকে পুরোপুরি ‘অপসারিত’ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ‘কলঙ্কিত’ করে। এর পরিবর্তে ‘সাসপেনশন’-এর সুপারিশ করা হয়েছে।

  • ফিরে আসার সুযোগ: অভিযুক্ত মন্ত্রী যদি পরবর্তীতে আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হন বা মামলা থেকে মুক্তি পান, তবে তাঁর সাসপেনশন আপনা-আপনি উঠে যাবে এবং তিনি পুনরায় স্বপদে বহাল হতে পারবেন।

  • বিচারপ্রক্রিয়ার সময়সীমা: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। এছাড়া সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সুপারিশও করা হয়েছে।

  • অপরাধের তালিকা: কোন অপরাধগুলি এই নিয়মের আওতায় পড়বে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘গুরুতর অপরাধের তালিকা’ তৈরির কথা বলা হয়েছে, যেখানে ন্যূনতম ৫ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

কেন এই পরিবর্তন? মোদী সরকারের আনা এই বিলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রধান যুক্তি ছিল যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো বিরোধী শাসিত রাজ্যের মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে অস্থির করতে কেন্দ্র এই আইনকে হাতিয়ার করতে পারে। কমিটির নতুন সুপারিশ সেই বিতর্ককে প্রশমিত করার একটি প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী সপ্তাহেই সংসদীয় যৌথ কমিটির এই চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এই প্রস্তাব আইন হিসেবে পাস হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বড় নজির হয়ে থাকবে।