হাসপাতালের ডিউটি আওয়ার্সে প্রাইভেট প্র্যাকটিস আর নয়! চিকিৎসকদের কড়া বার্তা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল স্বাস্থ্য দফতর। রবিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরকারি চিকিৎসকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাসপাতালের নির্ধারিত ডিউটির সময়ে কোনোভাবেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা যাবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কী রয়েছে? স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন চিকিৎসকদের কাজের শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, “রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়ার জন্যই সরকার চিকিৎসকদের মাসিক বেতন প্রদান করে। তাই সরকারি ডিউটির সময়ে হাসপাতালের বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” চিকিৎসকদের ‘ঘড়ি ধরে’ হাসপাতালে ডিউটি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষক চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বার্তা শুধু সাধারণ সরকারি চিকিৎসকই নয়, মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও নিয়ম আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষক চিকিৎসকদের সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা হাসপাতালে ডিউটি নিশ্চিত করতে হবে।
কেন এই কড়াকড়ি? সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবায় গাফিলতি নিয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ ক্রমাগত বাড়ছিল। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সরকারি ডিউটির সময় বা সেই কাজের ফাঁকে চিকিৎসকরা বাইরের ক্লিনিকে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন, যার ফলে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিহারের আদলে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা ফেরাতেই রাজ্য সরকার এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
স্বাস্থ্যভবনের এই নতুন নির্দেশিকা বলবৎ হলে সরকারি চিকিৎসকদের কর্মসংস্কৃতিতে বড় ধরণের বদল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিউটির সময়ে হাসপাতালের বাইরে রোগী দেখা নিয়ে আগে থেকেই নানা বিধিনিষেধ থাকলেও, নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান চিকিৎসা মহলে বড়সড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।