জেল থেকে মুক্তি পেলেন নিদা খান, শ্রীকৃষ্ণের জন্মের উদাহরণ দিয়ে জামিন দিলেন বিচারক!

মহারাষ্ট্রের নাসিক টিসিএস (TCS) ধর্মান্তরকরণ ও যৌন হেনস্থা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত নিদা খান জামিন পেলেন। ৬ জুলাই ২০২৬-এর এই রায় বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক কেজি যোশী অভিযুক্ত নিদা খানকে জামিন দিতে গিয়ে যে যুক্তি দিয়েছেন, তা যেমন অভূতপূর্ব, তেমনই বিতর্কিত। আদালত জানিয়েছে, নিদা খান বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় তাঁকে কারাগারে রাখা হলে তা অনাগত শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিচারক জামিন আদেশের পর্যবেক্ষণে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। আদালত বলেছে, কারাগারে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর জীবনের জন্য বড় ট্রমা বা সামাজিক কলঙ্ক হতে পারে। শ্রীকৃষ্ণের কারাগারের জন্মের উদাহরণ দিয়ে বিচারক জানান, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ ও তার সুস্থ বিকাশের স্বার্থে অনাগত সন্তানকে এই দুর্ভাগ্য থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। বিচারকের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ধর্মীয় রেফারেন্সের ব্যবহারের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল তর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধের গুরুত্বের চেয়ে কি এই আবেগপ্রবণ যুক্তি বেশি প্রাধান্য পেল?

উল্লেখ্য, নাসিকের টিসিএস বিপও (BPO) ইউনিটে কর্মরত এক দলিত মহিলা গত মার্চ মাসে ড্যানিশ শেখ নামক এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ আনেন। তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, টিসিএস-এর ওই ইউনিটে কাজ করা হিন্দু নারী কর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও যৌন হেনস্থা চলছিল। নিদা খান এই পুরো চক্রের এইচআর (HR) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নারী কর্মীদের বোরকা পরতে বাধ্য করতেন, ফোনে ইসলামিক অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে দিতেন এবং ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, ম্যানেজমেন্টের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও এইচআর নিদা খান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি, বরং উল্টে ভুক্তভোগীদের হেনস্থাই করা হতো। এই মামলায় মোট সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। নিদা খানের পাশাপাশি তৌসিফ আত্তার নামক আরেক অভিযুক্তও জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে, অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ড্যানিশ শেখের জামিনের আবেদন আদালত নাকচ করে দিয়েছে।

পুলিশি তদন্তে নিদা খানের বিরুদ্ধে শুধু ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নয়, বরং রীতিমতো সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মান্তরকরণের প্রক্রিয়া চালানোর তথ্য মিলেছে। চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, নিদা খান তার সহকর্মীদের ওপর মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতেন। এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিচারকের ‘শ্রীকৃষ্ণ’ সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে এখন আইনি ও নৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, জামিন পাওয়ার পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং নিদা খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রমাণিত হয়।