পুনেতে রহস্যের ঘনঘটা, এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিখোঁজ দুই নাবালিকা, আতঙ্কে কাঁপছে গ্রাম!

পুনের ইন্দাপুরের শেতফালগড়ে গ্রামে এখন শোক ও আতঙ্কের কালো ছায়া। গ্রামের মানুষ যখন নিশ্চিন্তে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই চোখের নিমেষে ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। ৭ জুলাই মধ্যরাতে মায়ের পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেল এক কিশোরী। রাতের অন্ধকারে মেয়ের অন্তর্ধানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। শুধু একটি ঘটনা নয়, এই একই গ্রামে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিখোঁজ হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। একের পর এক কিশোরীর রহস্যময় অন্তর্ধানে এখন নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

৭ জুলাই রাতে ওই কিশোরী তার মায়ের সাথে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল। রাত প্রায় ১২টার দিকে মায়ের ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন বিছানা খালি। পরিবারের সদস্যরা তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও কিশোরীর কোনো হদিশ মেলেনি। ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা পরিবার পরদিন সকালে ভিগওয়ান পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, গত ৩০ জুন একই গ্রামের ১৭ বছর বয়সী আরেক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিবারের অভিযোগ, ছোট বোনের সাথে দোকানে যাওয়ার সময় এক যুবক তাকে প্রলোভন দেখিয়ে বাইকে তুলে নিয়ে যায়। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ এখনো মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরপর দুটি ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা এখন নিজেদের সন্তানদের একা বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

ভিগওয়ান পুলিশ প্রশাসন উভয় ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। নিখোঁজ দুই কিশোরীকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষ এবং আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ তদন্তের জাল গুটিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুনের মতো জনবহুল এলাকায় গ্রামের বুক থেকে এভাবে নাবালিকাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কি কোনো সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের কাজ? সেই রহস্যভেদ করতেই এখন মরিয়া পুলিশ। গ্রামের প্রতিটি মানুষের একটাই আর্জি, দ্রুত উদ্ধার করা হোক তাদের মেয়েদের।