বারুইপুর কাণ্ড: গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী!

বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ভয়াবহ ঘটনা এবং পরবর্তীকালে গণপিটুনিতে যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সূর্যপুরে পৌঁছে উভয় পরিবারের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যেমন নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি, অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ও তাঁর দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

ঘটনার চার দিনের মধ্যেই সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এই দ্রুত পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা দেয়। চার অভিযুক্তকে বসিরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এক অভিযুক্তের এনকাউন্টার মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি সিআইডি তদন্তের বিষয়টি উল্লেখ করে এ নিয়ে এখনই বাড়তি মন্তব্যে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধীদের। তিনি বলেন, নাম-পরিচয় দেখে হাত-পা বেঁধে যেভাবে ৩৫ বছরের এক যুবককে খুন করা হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে ভোটে প্রত্যাখ্যাত কিছু মানুষের উস্কানি। দোষীদের বকখালি ও দিঘা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও, তাঁর পরিবারের দায়িত্ব এখন সরকারের। বাড়ির মেরামত, বার্ধক্য ভাতা ও মায়ের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধার পাশাপাশি পরিবারের পাশে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রেল অবরোধ ও বিক্ষোভের সময় পুলিশি ধরপাকড় নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, রেললাইনের ক্ষতিসাধনকারীরা দেশবিরোধী, তাদের শাস্তি পেতেই হবে। তবে নিরীহ কেউ যাতে পুলিশি হেনস্থার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “খুনি, ধর্ষক ও ভাঙচুরকারীরা ভয়ে থাকুক, সাধারণ মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই।”

নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারকে কী ধরনের সহায়তা করা হয়েছে, সে বিষয়ে আপাতত গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পরিবার চাইলে সেই তথ্য প্রকাশ করবে। দোষীদের দ্রুত ‘কাস্টডি ট্রায়াল’ ও নিজের মনিটরিংয়ে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই দুই ঘটনার ন্যায়বিচার ও শান্তি রক্ষায় সরকার কোনোভাবেই আপস করবে না।