কাটমানি ফেরতের হিড়িক! ফলতায় তৃণমূল নেতাদের টাকা ফেরানোর চাপে গ্রামবাসীদের স্বস্তি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা এলাকায় এবার কাটমানি ফেরতের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। আর এখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলাতেই সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। শুক্রবার বেলসিংহা অঞ্চলের বনহোগলা গ্রামে পলাতক তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গুরুপদ মণ্ডলের স্ত্রী সুচিত্রা মণ্ডল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা গ্রামবাসীদের হাতে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন।
অভিযোগ, ফলতার প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুরুপদ মণ্ডল বেলসিংহা অঞ্চলে কাটমানি ও তোলাবাজির একটি বড়সড় চক্র গড়ে তুলেছিলেন। আবাস যোজনা, আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিপূরণ, কিংবা সরকারি অনুদান—সবকিছুর বিনিময়েই ছিল নেতাদের কমিশন। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ১৮৩ নম্বর বুথ থেকেই ২৫ লক্ষাধিক টাকা তোলা হয়েছিল। এদিন পঞ্চায়েত প্রধান কাকলি মালির উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট তালিকা ধরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছে। অনেক গরিব পরিবার ধার-দেনা করে এই টাকা দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি গ্রামবাসীরা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক চাপ ও গুন্ডা দমন আইনের ভয় থেকেই অভিযুক্তরা টাকা ফেরাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, “জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাদের এই লুঠপাট বছরের পর বছর চলেছে। এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে ও আইনের ভয় থেকে তাঁরা কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন।” টাকা ফেরত পাওয়া গ্রামবাসী চন্দনা মণ্ডলের কথায়, “আগে মুখ খোলার সাহস ছিল না। এখন মানুষ প্রতিবাদ করছেন বলেই নেতারা টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন।”
তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, অভিযোগ খতিয়ে দেখে স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি তদন্তের রিপোর্ট আসার আগেই এই ‘কাটমানি ফেরত’-এর ঘটনা পুরো এলাকায় রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, মাত্র সাড়ে আট লক্ষ টাকায় কি দীর্ঘদিনের এই দুর্নীতির ক্ষত সারবে? নাকি বৃহত্তর তদন্তের মাধ্যমে আসল লুঠেরাদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে?