তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদদের দলবদল! বিজেপিতে যোগ দিতেই একযোগে তীব্র আক্রমণ কুণালের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও রাজ্যসভার তিন প্রাক্তন সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক—সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলেন। তৃণমূলের এই তিন হেভিওয়েট নেতার দলবদল বাংলার রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ তাঁদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন।

এই দলবদল নিয়ে কুণাল ঘোষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “দলের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আজ যাঁরা মমতার হাত ছাড়লেন, তাঁরা নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখলেন। এটা রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।” সুখেন্দু শেখর রায় থেকে সুস্মিতা দেব, কাউকেই রেহাই দেননি কুণাল। তিনি আরও বলেন, এই তিন নেতা দলের দুঃসময়ে পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টে বিজেপির মতো শক্তিতে যোগ দিয়ে প্রমাণ করলেন যে, তাঁদের আনুগত্য টাকার বা ক্ষমতার কাছেই সীমাবদ্ধ।

সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো প্রবীণ নেতা এবং সুস্মিতা দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে কি কোনো প্রভাব পড়বে? কুণাল ঘোষের মতে, “যাঁরা দলের সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাঁদের চলে যাওয়াই ভালো। তৃণমূল কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।”

বিজেপির অন্দরে এই তিন নেতার যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই দলবদল বিজেপির শক্তি কিছুটা হলেও বাড়াবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ যেভাবে তাঁদের আক্রমণ করেছেন, তাতে স্পষ্ট যে তৃণমূল এখন এই তিন নেতাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দিয়ে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

এই ঘটনা এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সুখেন্দু শেখর রায়ের দলত্যাগ অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দল। তবে কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে, তৃণমূল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।