একই দিনে দুই দুর্ঘটনা! ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ারের উড়ান বাতিল করে বড় পদক্ষেপ বাহামাস সরকারের

বাহামাসের ৫৩তম স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। শুক্রবার দুপুরে লিন্ডেন পিন্ডলিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ার ফ্লাইটসের (Flamingo Air Flights) একটি সেসনা ৪০২ (Cessna 402) বিমান। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ৯ যাত্রী এবং ১ পাইলট—সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। সান আন্দ্রোজ বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু মাঝপথেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি জঙ্গলের গভীরে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে আসা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। পুলিশ কমিশনার শান্তা নোলস জানিয়েছেন, প্রথমে এক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বাহামাসের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ব্রেফ ডেভিস এই ঘটনাকে জাতীয় বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন। স্বাধীনতা দিবসের উৎসব মুহূর্তের মধ্যে শোক দিবসে পরিণত হওয়ায় গোটা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “দেশ আজ শোকাচ্ছন্ন। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা।”
এই দুর্ঘটনার পরই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাহামাস সরকার। বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জোবেথ কোলবি-ডেভিস ঘোষণা করেছেন, ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ার ফ্লাইটসের এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট আপাতত সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিমান সংস্থাটির সমস্ত উড়ান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শুক্রবার শুধু এই একটি বিমান নয়, সংস্থাটির আরও একটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। মায়াগুয়ানা যাওয়ার পথে অন্য একটি বিমানে আগুন ধরে যায়, যদিও সেই যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন।
এই জোড়া দুর্ঘটনার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে বিমান সংস্থার সব বিমানকে গ্রাউন্ডেড বা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।