হিটলিস্টে ট্রাম্প! হত্যার চেষ্টা হলে ইরানকে নিয়ে কী ভয়ঙ্কর ছক কষলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সুর চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ইরান তাঁকে হত্যার কোনো চেষ্টায় সফল হয়, তবে তেহরানের ওপর এমন সামরিক আক্রমণ চালানো হবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি। তিনি ইতিমধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এই মর্মে কঠোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন বলে দাবি করেছেন।
কী বললেন ট্রাম্প? ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ‘হিটলিস্টে’ এক নম্বরে আছি। আমি তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে রেখেছি—যদি আমার কোনো ক্ষতি হয়, তবে আক্ষরিক অর্থেই তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমাবর্ষণ করা হোক, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।” তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাঁর ওপর নতুন কোনো আসন্ন হামলার গোয়েন্দা তথ্য নেই।
পুরানো আক্রোশ ও সোলেমানি ইস্যু: ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশেই বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। তারপর থেকেই ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা চরমে পৌঁছায়। ইরানের নতুন নেতাদের নিশানাতেও যে ট্রাম্প রয়েছেন, তা আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পরবর্তী মন্তব্যেই স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, “আমি তাদের এক নম্বর টার্গেট, তবে ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।”
আলোচনার টেবিলে কি নতুন মোড়? সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি জানান, ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাবে সাড়া দিলেও, ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে।
কেন এই সতর্কতা? চলতি বছর জুলাই মাসে বাটলারের জনসভায় ট্রাম্প অল্পের জন্য প্রাণঘাতী হামলা থেকে রক্ষা পান। যদিও সেই ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও একের পর এক হত্যার হুমকির প্রেক্ষিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প যে অত্যন্ত সতর্ক, তা তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যে পরিষ্কার।
বিশেষজ্ঞদের মত: ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে চড়া সুর বজায় রেখে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির এক মরিয়া চেষ্টা। এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নয়, বরং সংক্ষিপ্ত ও তীব্র সংঘর্ষের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।