টাকা নিয়ে ফের লড়াই! ইডি ফ্রিজ করা ৫ অ্যাকাউন্ট ফেরাতে হাইকোর্টে মমতা-শিবির

দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল। ইডির (ED) তরফে দলের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ এই মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

কেন এই আইনি জটিলতা? আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে (PMLA) ইডি তৃণমূলের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বলে জানা গিয়েছে। বুধবার ইডি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর আগে, দলীয় কোন্দলের জেরে রাজ্য পুলিশ তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল, যা পরিচালনার জন্য হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছে। কিন্তু ইডির এই নতুন পদক্ষেপে দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

দলে বিভাজন ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিতর্ক বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া বিভাজনই এই সঙ্কটের মূল কারণ। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একটি অংশ দাবি করেছে, দলের অন্দরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে। অরূপ বিশ্বাসের সই করা একটি চিঠি নিয়ে ব্যাঙ্কে বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির সাংগঠনিক রদবদলের মাধ্যমে অরূপ বিশ্বাসের পরিবর্তে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করে। এই ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যেই পুলিশ ও ইডি তদন্তে নামে।

হাইকোর্টে কী দাঁড়াল পরিস্থিতি? শুক্রবার আইনজীবী কিশোর দত্ত বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে জানান, ইডি নতুন করে অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করায় জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আদালত মামলাটির শুনানির অনুমতি দিলেও, বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য বেঞ্চে কোনো নির্দেশ থাকলে তিনি আপাতত তাতে হস্তক্ষেপ করবেন না।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের আইনি লড়াই আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাঝখানে পড়ে এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন। সোমবার আদালতের রায় কি মমতাপন্থী তৃণমূলকে কিছুটা স্বস্তি দেবে, না কি নতুন কোনো আইনি জট তৈরি হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।