স্বপ্ন নয়, এবার বাস্তব! মন্দারমণির গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে এল বড় আপডেট, নবান্নে রিপোর্ট জমা

পূর্ব মেদিনীপুরের মানচিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন। তাজপুর বন্দরের জটিলতা কাটিয়ে এবার মন্দারমণির দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্দর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত রিপোর্ট ইতিমধ্যে জেলাশাসকের দপ্তর থেকে নবান্নে পাঠানো হয়েছে।
বাস্তবের পথে বড় প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের স্বপ্ন বিভিন্ন কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এমনকী, তাজপুর বন্দর প্রকল্প থেকে আদানি গোষ্ঠী সরে আসায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই প্রকল্পের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন এবং রাজ্য বাজেটেও এর জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী সমস্ত প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এখন পরবর্তী প্রশাসনিক নির্দেশের অপেক্ষায় প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
স্থানীয়দের দাবি ও কর্মসংস্থানের স্বপ্ন বন্দর নির্মাণের খবরে দাদনপাত্রবাড়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা চরমে। মূলত কৃষি ও শুঁটকি মাছ ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের বাসিন্দারা উন্নয়নের আশায় বুক বাঁধছেন। তবে তাঁদের মূল দাবি, প্রকল্প রূপায়ণের সময় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে যেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত গিরি, সুকুমার মণ্ডলদের কথায়, ‘‘আমরা জমি দিতে রাজি, তবে উন্নয়নের সুফল যেন এলাকার মানুষ আগে পায়। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই নিশ্চয়টুকুই চাইছি।’’
অর্থনৈতিক মোড় ঘোরানোর লক্ষ্য রাজ্য প্রশাসনের মতে, দাদনপাত্রবাড়ের এই সমুদ্রবন্দর কেবল একটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি গোটা উপকূলবর্তী এলাকার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হয়ে উঠতে পারে। বন্দর কেন্দ্রিক শিল্পায়ন এবং ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থানের যে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে, তা রাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি সদিচ্ছা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় যদি এই প্রকল্প দ্রুত আলোর মুখ দেখে, তবে তা রাজ্যের শিল্পায়নের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।