ভিআইপি গাড়ি ছাড়লেন এসপি! বন্যা দুর্গত ঘাটালের পথে টোটোয় চেপে সরাসরি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে প্রতি বছর বন্যার করাল গ্রাস কেড়ে নেয় হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একেবারে অন্যরকম মেজাজে ধরা দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। প্রথাগত ভিআইপি কনভয় কিংবা দামী এসইউভি গাড়ি নয়, বন্যা পরিস্থিতির সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ সুপার বেছে নিলেন সাধারণের বাহন টোটোকে। ঘাটাল মহকুমার মনসুকা ১ ও ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুর্গম ও জলমগ্ন রাস্তাগুলোতে টোটোয় চেপে তিনি ঘুরে দেখলেন পরিস্থিতি।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতায় ঘাটাল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশ সুপারের এই অভিনব উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছেন। ভিআইপি প্রোটোকল সরিয়ে টোটোয় চড়ে গ্রামে ঢুকে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ শোনেন। সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখার পর পাপিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো প্রকার ঢিলেমি যাতে না হয়, সেদিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন।

বন্যা কবলিত এলাকার প্রসূতি মায়েদের নিয়ে বরাবরই উদ্বেগ থাকে প্রশাসনের। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, প্রসূতি মায়েদের আগাম চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি রাখা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকার্য চালানোর জন্য অতিরিক্ত নৌকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে শুরু করে অ্যান্টি-ভেনম ইঞ্জেকশন, জেনারেটর, সার্চলাইট এবং বন্যা দুর্গতদের জন্য কমিউনিটি কিচেন চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মনসুকা ১ ও ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি এলাকা যেন প্রশাসনিক নজরদারির বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ সুপার নিজে களத்தில் নেমেছেন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নদী সংলগ্ন এই গ্রামগুলোতে জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগকে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু ত্রাণ নয়, উদ্ধারকাজ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও ঘাটাল পুলিশ কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।

বন্যা পরিস্থিতিতে সাপের উপদ্রব এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের বড় আতঙ্ক। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রতিটি ব্লকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঘাটাল মহকুমার পুলিশ ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে যারা দিনরাত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। পুলিশ সুপারের এই পরিদর্শন কেবল একটি প্রশাসনিক রুটিন নয়, বরং বন্যা দুর্গত মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কোনো রকম বিপদ ঘটলে সাধারণ মানুষকে দ্রুত যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই বিশেষ প্রস্তুতি ও ঘাটালের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহকুমা দপ্তরের নির্দেশিকাগুলো অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।