বারুইপুরে ১৭ বছরের কিশোরকে গলা কেটে খুন, রণক্ষেত্র হাসপাতাল চত্বর

ফের শিরোনামে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। একের পর এক খুনের ঘটনায় তপ্ত জনপদ। এবার খেলার মাঠের পুরনো শত্রুতার জেরে নৃশংসভাবে খুন হতে হলো ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বর। মৃত কিশোরের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, বাড়ি বারুইপুরের ফুলতলা এলাকার এ-ব্লকে।
ঠিক কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে খবর, তিন দিন আগে একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বচসার সূত্রপাত হয়। প্রসেনজিতের টিম ম্যাচটি জিতলে বিপক্ষ দলের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, বিষয়টি মিটে গেছে। কিন্তু সোমবার অভিযুক্ত তিন যুবক প্রসেনজিৎ ও তাঁর বন্ধুকে বারুইপুরের পালপাড়া এলাকায় একটি ব্যাংকের কাছে ডেকে পাঠায়। সেখানে তর্কাতর্কির মাঝেই ধারালো ছুরি দিয়ে প্রসেনজিতের ঘাড় ও গলায় এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। রক্তে লুটিয়ে পড়ে সে। তড়িঘড়ি তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
উত্তাল পরিস্থিতি, পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর: খবর ছড়াতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের সামনের রাস্তা অবরোধ করেন। অভিযোগ, বিক্ষোভের জেরে হাসপাতালের ভিতরে থাকা পুলিশ ক্যাম্পেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার: ঘটনার পরপরই পুলিশের জালে ধরা পড়ে অভিযুক্ত তিন যুবক। তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় হাসপাতাল চত্বরে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় বারুইপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।