শুধু আমেরিকা নয়, পাশে ভারতও! ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে বড় দাবি নেতানিয়াহুর

ইজরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ যতই বাড়ছে, ততই নিজের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর নাম প্রকাশ্যে আনছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক এক মার্কিন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইজরায়েলের পাশে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ভারতকে গুরুত্ব দিয়ে নাম উচ্চারণ করেছেন তিনি। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইজরায়েলের একমাত্র মিত্র কেবল আমেরিকা নয়, শক্তিশালী ভারতও তাদের অন্যতম ভরসার জায়গা।
গাজা, ইরান এবং লেবাননের চলমান সংঘাতের আবহে বিশ্বরাজনীতির সমীকরণ যখন জটিল, তখন নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমাদের কেবল আমেরিকাই নয়, ভারতের মতো দেশ থেকেও আমরা অসাধারণ সমর্থন পাই। ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশ থেকে আমরা যে পরিমাণ সমর্থন ও সহমর্মিতা পাই, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।”
নেতানিয়াহু জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিয়মিত ভারতের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রচুর সমর্থনের বার্তা পান। তাঁর কথায়, “ফেসবুকে আমি ভারতের মানুষের অসংখ্য বার্তা ও শুভকামনায় ভেসে যাই। এটা আমাদের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ভারত কেবল কূটনৈতিক স্তরেই নয়, বরং মানসিকভাবেও ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে।
নেতানিয়াহুর আরও দাবি, বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনেতা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ফোন করে ইজরায়েলের পাশে থাকার কথা জানান। কিন্তু নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরে জনমতের প্রবল চাপের মুখে পড়ে তাঁরা প্রকাশ্যে সেই সমর্থন জাহির করতে পারেন না। এই নেতারাই আবার গোপনে ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সাইবার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। নেতানিয়াহু উদ্ধৃত করেন, অনেক নেতা তাঁকে ফোনে বলেন, “আমরা আপনাদের সম্মান করি। আপনাদের সেনাবাহিনীর কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা আমাদের শেখান। আমরা কি এ নিয়ে গোপন চুক্তিতে আসতে পারি?”
সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছিলেন যে, আমেরিকাই ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র। সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই নেতানিয়াহু ভারতের অবদানের কথা তুলে ধরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। একইসঙ্গে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইজরায়েলের ইতিহাসের “সবচেয়ে বড় বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করেন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যখন একঘরে হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন নেতানিয়াহুর এই কৌশলী বক্তব্য ইজরায়েলের বিদেশনীতির এক নতুন দিক উন্মোচন করল। বিশেষ করে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা এই গভীর কৌশলগত ও মানবিক সখ্যতা আগামী দিনে ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।