প্রকৃতির রোষে পাহাড়! কিন্নরে ভয়াবহ হড়পা বান, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় কাঁপছে হিমাচল প্রদেশ

প্রবল বর্ষণে ফের বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দপ্তর (IMD) নতুন করে সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টা হিমাচলের বিভিন্ন অংশে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে কাংড়া, উনা এবং সিরমৌর জেলার জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ (Orange Alert) জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা দুর্যোগের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি চম্বা, মান্ডি এবং সিমলা জেলাতেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করছে হাওয়া অফিস।
প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা এবং যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য পথে গাড়ি চালানোর সময় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া ও ধসের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী, ঝর্ণা ও ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয় থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কড়া পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।
এই চরম আবহাওয়ার মধ্যে কিন্নর জেলায় হড়পা বানের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভোর ৪টে নাগাদ মিরু নালায় জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চোলিং এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান আসে। জলের তোড়ে ভেসে আসা বড় বড় বোল্ডার ও ধ্বংসস্তূপে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক-৫ (NH-5) সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। হাইওয়ের প্রায় ৩০ মিটার অংশ কাদা ও পাথরে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও রিব্বা-কান্দে সংযোগকারী রাস্তার একাংশ ভেসে গেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন তৎপর হয়েছে। লোনাভালা বা অন্যান্য পাহাড়ি এলাকার মতো এখানেও জরুরি পরিষেবার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত আপডেটের দিকে নজর রাখার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে। যতক্ষণ না আবহাওয়া স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। জাতীয় সড়ক থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হলেও বৃষ্টির দাপটে উদ্ধারকাজে বাধা আসছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার খাতিরে স্থানীয় প্রশাসনের হেল্পলাইন নম্বরগুলি কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।