লাইভ ম্যাচে কন্ডোমের বিজ্ঞাপন! বিসিসিআই-এর বিরুদ্ধে সংসদে যাওয়ার হুঙ্কার কীর্তি আজাদের

ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচারের মাঝে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের বিজ্ঞাপন’ দেখানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল সাংসদ ও ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। ওল্ড ট্রাফোর্ডের ম্যাচে কন্ডোমের (Durex) বিজ্ঞাপন দেখানোকে অত্যন্ত ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)-এর দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি।

কী অভিযোগ সাংসদের? ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এবং একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কীর্তি আজাদ বলেন, “ভারতে ক্রিকেটকে ধর্মের মতো দেখা হয়। ৪৪ কোটি দর্শক যখন টিভিতে ম্যাচ দেখছেন, যার মধ্যে অসংখ্য শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে, ঠিক তখনই ওভারের মাঝখানে এই ধরনের প্রাপ্তবয়স্কদের বিজ্ঞাপন দেখানো চরম অস্বস্তিকর। বাবা-মায়েরা শিশুদের সামনে লজ্জা পাচ্ছেন, আর ছোটরা জানতে চাইছে এই বিজ্ঞাপনগুলো কিসের!”

তামাক-মদের বিজ্ঞাপনের সাথে তুলনা: কীভাবে টিভিতে এই ধরণের বিজ্ঞাপনের অনুমতি মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আজাদ বলেন, “এ দেশে তামাক ও মদের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। তাহলে কেন ওভারের মাঝখানে এই ধরনের বিজ্ঞাপনের অনুমতি দেওয়া হবে? শিশুরা এগুলো বোঝে না, তাদের মানসিক বিকাশে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”

সংসদে তোলার হুঁশিয়ারি: এই বিতর্কিত বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য বিসিসিআই-কে দায়ী করেছেন কীর্তি আজাদ। আপাতত তিনি বোর্ডকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিস দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিসিসিআই যদি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি খতিয়ে না দেখে এবং ভবিষ্যতে এমন বিজ্ঞাপন বন্ধের ব্যবস্থা না করে, তবে আগামী সংসদ অধিবেশনে তিনি বিষয়টি জোরালোভাবে তুলবেন।

বোর্ডের অবস্থান: ঘটনাটি নিয়ে নেটপাড়ায় ব্যাপক চর্চা চললেও, বিসিসিআই কিংবা সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকারী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের তরফে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শিশুদের মানসিক সুরক্ষার খাতিরে এই ধরণের বিজ্ঞাপনের প্রচার বন্ধ হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জনমত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।