১৭ বছরেও বদলায়নি ভাগ্য! সন্দেশখালিতে দোলনায় রোগী, রাস্তা না থাকায় ফুঁসছে গ্রাম

ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডব মিটেছে প্রায় সতেরো বছর আগে। ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে বহুবার, বারবার হয়েছে নির্বাচন। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের সেহারা রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩২ নম্বর বুথের বাসিন্দাদের কাছে আজও পাকা রাস্তা কেবলই এক অধরা স্বপ্ন। রাস্তা না থাকায় অসুস্থ রোগী বা প্রবীণদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে আজও গ্রামবাসীদের ভরসা চটের বস্তা বা কাপড়ের দোলনা।

দুর্ভোগের করুণ ছবি: স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৯ সালের আইলার পর থেকে এই রাস্তার কোনো সংস্কার হয়নি। ইটের রাস্তা আজ কার্যত অস্তিত্বহীন। রাস্তার পাশের পুকুর থেকে মাটি কাটার ফলে একাংশ ধসে পড়েছে, জায়গায় জায়গায় তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। বর্ষায় কাদা-জলে রাস্তাটি চলাচলের পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মাঝেরপাড়ার প্রায় ২০-৩০টি পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ এই বেহাল রাস্তাটি।

মানুষের হাহাকার: গ্রামবাসী অনুজ মণ্ডল জানান, তাঁর বিশেষভাবে সক্ষম জ্যাঠামশাই অসুস্থ হয়ে পড়লে চারজন মিলে চটের বস্তায় বসিয়ে দোলনার মতো করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। স্থানীয় গৃহবধূ সন্ধ্যা মণ্ডল জানিয়েছেন, গর্ভবতী নারীদের এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এমনকি, কারোর মৃত্যু হলে মৃতদেহ কাঁধে করে বের করাও এই রাস্তার কারণে চরম কষ্টের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসনের নীরবতা: বাসিন্দাদের ক্ষোভ, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিডিও অফিস—সব জায়গায় বছরের পর বছর আবেদন জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। ভোটের আগে নেতাদের দেওয়া লম্বা লম্বা প্রতিশ্রুতি ভোটের পরেই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিধায়কের কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের অবহেলা আর চরম দুর্দশায় থাকা এই গ্রামবাসীদের একটাই দাবি—আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, অবিলম্বে রাস্তার সংস্কার চাই। উন্নয়ন যখন রাজ্যের বড় দাবি, তখন সন্দেশখালির এই বিচ্ছিন্ন গ্রামের পরিস্থিতি উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতির মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।