ভিএআর বিতর্কে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় জার্মানির! কি ভুল সিদ্ধান্ত দিলেন মরক্কোর রেফারি?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অফ ৩২-এর লড়াইয়ে জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচ ঘিরে এখন উত্তাল ফুটবল বিশ্ব। একদিকে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয় যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির অকাল বিদায় নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে ফুটবল মহলে। কিন্তু এই সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক এই প্রযুক্তি কি সবসময় সঠিক বিচার করতে পারছে?

ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪২ মিনিটে জুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। এরপর ৫৪ মিনিটে কাই হ্যাভার্ৎজ জার্মানির হয়ে সমতা ফেরান। নির্ধারিত সময় ১-১ ড্র থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৩ মিনিটে কর্নার কিক থেকে জার্মান ডিফেন্ডার জোনাথন তাহ হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়িয়ে দেন। কিন্তু মুহূর্তেই গ্যালারিতে নীরবতা নেমে আসে যখন রেফারি জালাল জায়েদ গোলটি বাতিল বলে ঘোষণা করেন। ভিএআর দায়িত্বে থাকা তাতিয়ানা গাজম্যান জানান, গোলের ঠিক আগে জার্মানির ওয়াল্ডেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিলকে ফাউল বা ধাক্কা মেরেছেন। এই সিদ্ধান্তের জেরে জার্মানি তাদের গুরুত্বপূর্ণ গোলটি থেকে বঞ্চিত হয়। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে জার্মানি হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়।

জার্মানির সমর্থক এবং ফুটবল বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মতে, গোল বাতিল করার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং ভুল। অ্যান্টন সত্যিই গোলকিপারকে ধাক্কা মেরেছিলেন কি না, তা নিয়ে ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খেলা শেষে নিজের হতাশা গোপন রাখতে পারেননি জার্মান প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আপনারা বলতেই পারেন আমরা অন্যভাবে সুযোগ নিতে পারতাম। কিন্তু যে গোলটি বাতিল করা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ ছিল। এই গোল বাতিল হওয়াটা হাস্যকর।”

একজন রেফারি এবং প্রযুক্তি যখন কোনো দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, তখন তার সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। জার্মানির গোল বাতিল না হলে হয়ত ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াতই না এবং তারা অনায়াসেই রাউন্ড অফ ১৬-এর টিকিট নিশ্চিত করতে পারত। এই বিতর্কের ফলে ফুটবল প্রেমীরা এখন ভিএআর-এর স্বচ্ছতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রেফারিংয়ের মান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে ফিফাকে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিদায় নিঃসন্দেহে এই বিশ্বকাপের একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।