ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুখবর! সরকারি ঋণে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ, কারা পাবেন এই সুবিধা?

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আর্থিক স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম সফল প্রকল্প হলো ‘পিএম স্বনিধি যোজনা’। এই প্রকল্পের আওতায় হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর পুরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘জনকল্যাণ মেলা ও পিএম স্বনিধি মহোৎসব’-এর সমাপ্তি লগ্নে এই প্রকল্পের বিভিন্ন সুবিধা ও সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র।

বিধায়ক জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে আর্থিক পুঁজি তুলে দিতেই এই লোন মহোৎসবের আয়োজন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ঋণের পরিমাণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়। প্রথম দফায় একজন ব্যবসায়ী ১৫ হাজার টাকা ঋণ পান। যদি তিনি এক বছরের মধ্যে ১৫,৬০০ টাকা ফেরত দেন, তবে দ্বিতীয় দফায় মিলবে ২৫ হাজার টাকার ঋণ। সেই টাকা দেড় বছরের মধ্যে পরিশোধ করলে তৃতীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা শোধ করার জন্য তিন বছর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বহরমপুর পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই হাজার হাজার আবেদনকারী এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ পেয়েছেন।

এই ঋণ পাওয়ার জন্য কোনো জটিল নথিপত্রের প্রয়োজন নেই। বিধায়ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ট্রেড লাইসেন্স থাকা এখানে বাধ্যতামূলক নয়। সুবিধা পেতে গেলে হকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মূলত দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—প্রথমত, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে একটি বৈধ সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করা থাকতে হবে। এই নথিপত্র থাকলেই আবেদনকারীরা ঋণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

সিটি মিশন ম্যানেজার মুনমুন ঘোষ জানান, ২০২০ সালে করোনা অতিমারীর পরবর্তী সময়ে পথ বিক্রেতাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এই যোজনা চালু করেন। শুধুমাত্র ঋণের অর্থ দেওয়াই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে হকারদের ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করা এবং এফএসএসএআই (FSSAI) দ্বারা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

এছাড়াও ‘স্বনিধি সে সমৃদ্ধি’ কর্মসূচির মাধ্যমে হকার ও তাঁদের পরিবারকে আটটি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা, জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, পিএম শ্রম যোগী মানধন, জনধন যোজনা, ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড, জননী সুরক্ষা যোজনা, বিওসিডব্লিউ নিবন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা। মেলার উপভোক্তারা জানিয়েছেন, এই ঋণের টাকা ব্যবহার করে তাঁরা ঠেলাগাড়ি কেনা বা ছোট খাবারের দোকান চালানোর মতো ব্যবসা শুরু করে আজ স্বনির্ভর। অনেক ব্যবসায়ী প্রথম কিস্তির ঋণ শোধ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ঋণের জন্য আবেদনও করেছেন। জুন মাসব্যাপী চলা এই সচেতনতা কর্মসূচি প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।