শিলিগুড়িতে সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির চেষ্টা, এআই ক্যামেরার তৎপরতায় হাতেনাতে ধরা পড়ল দুষ্কৃতী!

শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে গত বছর ঘটে যাওয়া ডাকাতির স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের দুষ্কৃতীদের নিশানায় শহরের সোনার দোকান। তবে এবার প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং পুলিশের তৎপবতায় বড়সড় ডাকাতির চেষ্টা বানচাল হয়ে গেল। গভীর রাতে শিলিগুড়ির সেবক রোডে অবস্থিত একটি সর্বভারতীয় ব্র্যান্ডের গয়নার শোরুমে দুঃসাহসিক চুরির চেষ্টা চালায় ভিনরাজ্যের একদল দুষ্কৃতী। যদিও শেষরক্ষা তাদের হয়নি, পুলিশের জালে ধরা পড়েছে দুইজন।

পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল গভীর রাত আনুমানিক একটা থেকে দেড়টা নাগাদ যখন সেবক রোড এলাকা শুনশান ছিল, সেই সুযোগকেই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা। শোরুমের শাটার কেটে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। তবে তারা সম্ভবত খেয়াল করেনি যে, পুরো শোরুমটি অত্যাধুনিক এআই (AI) সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া রয়েছে। শোরুমের ভেতরে মানুষের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই এআই ক্যামেরাগুলি বেঙ্গালুরুতে থাকা সংস্থার মূল কার্যালয়ে রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন পাঠাতে শুরু করে।

সেখান থেকে দ্রুত যোগাযোগ করা হয় শোরুমের মালিক নাতাশা মার্টিনের সঙ্গে, যিনি বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন। নাতাশাদেবী এক মুহূর্ত দেরি না করে তৎক্ষণাৎ ভক্তিনগর থানায় ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। ভক্তিনগর থানার ওসি এবং সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন।

পুলিশের টহলদারি গাড়িটি যখন সোনার দোকানের মোড়ের সামনে পৌঁছায়, তখন দুই দুষ্কৃতীকে রাস্তা দিয়ে দৌড় পালাতে দেখা যায়। পুলিশ দেখামাত্রই সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করতে শুরু করে। ধাওয়া খেয়ে তারা আলাদা দুটি রাস্তা ধরে পালানোর চেষ্টা করে। একজন জ্যোতিনগরের দিকে এবং অপরজন আপার ভালো নগরের দিকে ছুটতে থাকে। পুলিশের নিখুঁত তৎপরতায় জ্যোতিনগরের দিকে পালানো দুষ্কৃতীকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে পুলিশ। তার ব্যাগের তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে।

এরপর পুলিশ যখন পুনরায় সোনার দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন তারা অবাক হয়ে দেখে যে তাদের দলের আরেকটি সদস্য তখনও ভেতর থেকে লুটপাটের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাকেও পুলিশ হাতেনাতে পাকড়াও করে। তবে আপার ভালো নগরের দিকে পালানো অন্য দুষ্কৃতীকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই চুরির ঘটনার সঙ্গে অন্তত তিন বা তার বেশি দুষ্কৃতী যুক্ত রয়েছে। ধৃতরা ভিনরাজ্যের বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে এবং পলাতক সঙ্গীদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট।