‘সওকত মোল্লার মতো ছাড় নয়’, উস্কানিমূলক মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং বিধায়কদের অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে নওয়াদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ‘গুণ্ডারাজ’ চালানোর অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? বিধানসভার ফ্লোর থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি বলেন, “সওকত মোল্লা ফোন করে বা হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু আমি ক্ষমা চাওয়ার লোক নই। একইভাবে, নওয়াদার বিধায়কও পার পাবেন না।” এদিন অধিবেশন কক্ষে হুমায়ুন কবিরের বিতর্কিত দুটি ভাষণের অংশবিশেষ পড়ে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের নৈরাজ্য রাজ্য সরকার আর সহ্য করবে না।
বিতর্কিত মন্তব্যের লম্বা তালিকা: মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন:
রেজিনগরের সভা: ২৬শে জুন দলীয় সভায় হুমায়ুন কবির বিজেপি বিধায়ক অনামিকা ঘোষ ও গেরুয়া শিবিরের উত্থান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ধর্মীয় বিভাজন উসকে দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
থানা ঘেরাওয়ের ঘটনা: ৮ই জুন শক্তিপুরের দুয়ারা ঘাটে নিজের ভাগ্নের গ্রেপ্তারের জেরে বিধায়ক থানার ওসি-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। ১০ হাজার সমর্থক নিয়ে থানা ঘেরাও করে ওসি-কে কলার ধরে টেনে নামানোর হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও হুঁশিয়ারি: শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, রেজিনগরে আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের ছেলের জয়ের পথ প্রশস্ত করতে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করছেন হুমায়ুন কবির। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আসলে তিনি তাঁর ছেলের জয়ের জন্যই এই বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন।”
ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (BNS) বিভিন্ন ধারায় দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি নিজে মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন এবং সেখানে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন।
বিধানসভায় উত্তাপ: মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে বিধানসভায় চরম হট্টগোল দেখা দেয়। বিজেপি বিধায়করা পোস্টার হাতে প্রতিবাদ জানান। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন এবং আশ্বাস দেন যে, বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেশখালি বা ফলতার ঘটনার রেশ কাটিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘কড়া দাওয়াই’ আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিধায়কের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “কথা বলার আগে পঁচিশবার ভাবা উচিত”— যা কবিরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।