আমলা বনাম সন্ত: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে উত্তাল অযোধ্যা, ১১ জুলাইয়ের বৈঠকের দিকে নজর

শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো এবং সেখানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিয়োগের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের আবহেই এই নিয়োগের প্রস্তাব উঠেছে। তবে এই প্রশাসনিক সংস্কারকে ‘সরকারি কব্জা’ বলে অভিহিত করে এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি।

সন্তদের মূল প্রশ্ন কী? সন্ত সমিতির নেতৃবৃন্দ সরাসরি ধর্মীয় বৈষম্যের দিকে আঙুল তুলেছেন। অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতির জাতীয় সচিব স্বামী জিতেন্দ্রানন্দ সরস্বতী জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, “মসজিদ যদি ওয়াকফ বোর্ড, গুরুদ্বারা যদি এসজিপিসি (SGPC) এবং গির্জাগুলো যদি চার্চ কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত হতে পারে, তবে হিন্দু মন্দিরগুলোতে সরকার কেন নিয়ন্ত্রণ করতে চায়?

সন্তদের দাবি, কোনো প্রশাসনিক অব্যবস্থার অজুহাতে মন্দিরগুলোকে আমলাদের নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত নয়। তাদের মতে, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।

কী বলছেন সাধু-সন্তরা? অযোধ্যায় আয়োজিত এক জনসভায় সন্তরা একযোগে প্রস্তাব পাশ করেছেন যে, রাম মন্দিরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই আমলাদের হাতে দেওয়া চলবে না। মন্দিরটি পরিচালনা করতে হবে সনাতনী সন্ত পরম্পরা এবং ভক্তদের দ্বারা।

আচার্য মিথিলেশ নন্দিনী শরণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “রাম মন্দির তৈরি হয়েছে ভক্তদের আবেগে, সেটি আমলাদের চালানো উচিত নয়। যদি ট্রাস্ট পুনর্গঠন করতেই হয়, তবে সেখানে বিভিন্ন পরম্পরার সন্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য মানুষদের স্থান দেওয়া হোক, কিন্তু মন্দিরকে ‘সত্তার উপনিবেশ’ বানানো চলবে না।”

কেন এই বিতর্ক? রাম মন্দিরের দান-খয়রাত ও অনুদান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই মন্দিরের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই সরকার মন্দির প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্যে একজন CEO নিয়োগের ভাবনাচিন্তা করছে। সন্তদের আশঙ্কা, একবার সরকারি আমলাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

১১ জুলাইয়ের ট্রাস্ট বৈঠক: সূত্রের খবর, আগামী ১১ জুলাই ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে মন্দিরের সাংগঠনিক কাঠামোর বড়সড় বদল আসতে পারে। ট্রাস্টের পুনর্গঠন, চম্পত রাই এবং ডঃ অনিল মিশ্রের পদত্যাগের জল্পনা এবং প্রশাসনিক রূপরেখা—এই সমস্ত বিষয় নিয়েই ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, সন্তদের এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, নাকি ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাঠামোয় সন্তদের কোনো মধ্যপন্থা মেনে নেওয়া হয়।