“তিস্তা-তোর্সা ফুঁসছে!”-ভেঙে গেল সিকিমের বেইলি ব্রিজ, বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিক রোড

টানা অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার—এই পাঁচ জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা ও হলুদ সতর্কতা। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড় থেকে সমতল, সর্বত্রই প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত।

নদী ও পাহাড়ে দুর্ভোগের ছবি: টানা বৃষ্টিতে ফুঁসছে তিস্তা, তোর্সা, ডায়না, মহানন্দা ও জলঢাকা নদী। তিস্তার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সিকিম ও উত্তরবঙ্গ সীমান্তের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। শনিবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে উত্তর সিকিমের ফিদাং-এ সেনাবাহিনীর তৈরি বেইলি ব্রিজ ভেসে গিয়েছে, যার ফলে মঙ্গন ও জঙ্গুর মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এছাড়া শিলিগুড়ি-মিরিক রোডে ধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের বি-বাড়ির অস্থায়ী ডাইভারশন ভেসে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে জয়গাঁ।

প্রশাসনের পদক্ষেপ: গত বছর অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মাথায় রেখে এবার আগেভাগেই সতর্ক প্রশাসন। বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ চালানো হচ্ছে। ধস ও বন্যায় দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (NDRF/SDRF) বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। মিরিক ও ডুয়ার্সের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া: উত্তরবঙ্গের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হলেও, দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতায় মেঘলা আকাশ থাকলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ও গরম বজায় থাকবে, তবে বিকেলের দিকে দমকা হাওয়া ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অফিস।