ফের লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নিশানায় রোহিত শেট্টি! ২০ কোটি টাকা না দিলে খুনের হুমকি, তোলপাড় বলিউড

বলিউডের ‘অ্যাকশন কিং’ রোহিত শেট্টির জীবন যেন এখন তাঁরই সিনেমার মতো টানটান থ্রিলার। পরিচালক হিসেবে অ্যাকশনধর্মী ছবির জন্য পরিচিত রোহিত এবার নিজেই বাস্তব জীবনের এক ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি। ফের একবার খুনের হুমকি দেওয়া হলো বলিউডের এই তারকা পরিচালককে। এবার আর কোনো উড়ো চিঠি নয়, সরাসরি ফোন কল এল রোহিতের অফিসে। ফোনের ওপার থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সাফ জানিয়ে দিল, প্রাণে বাঁচতে হলে অবিলম্বে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। শনিবার সকালে এই ঘটনায় মুম্বইয়ের টিনসেল টাউনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এই ধরণের হুমকি আসায় পরিচালক এবং তাঁর অনুরাগীমহলে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ২৭ জুন সকালে জুহুতে অবস্থিত রোহিত শেট্টির অফিসে ওই হুমকি ফোনটি আসে। ফোনের ওপারে থাকা দুষ্কৃতী চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, দাবিমতো ২০ কোটি টাকা না দিলে পরিচালককে নির্মমভাবে খুন করা হবে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রোহিতের অফিসের প্রতিনিধিরা কালক্ষেপণ না করে তড়িঘড়ি মুম্বই পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুম্বই পুলিশ অতি দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের হাত থাকতে পারে। সাইবার সেলের আধিকারিকরা এখন ফোন কলের লোকেশন ট্র্যাক করে এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, রোহিত শেট্টির কাছে এই ধরণের প্রাণনাশের হুমকি নতুন কিছু নয়। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও তাঁর জুহুর বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম করে রোহিত এবং অভিনেতা রণবীর সিংহকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১৫ জনকে গ্রেফতারও করেছিল। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই নতুন ধাক্কা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর নিয়ে।

শনিবারের এই ঘটনার পর রোহিত শেট্টির ব্যক্তিগত বাড়ি এবং অফিসের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। তবে প্রশ্ন উঠছে, কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে এই নামী পরিচালককে? তদন্তের জল এবার কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বলিপাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে।