ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, যুদ্ধবিরতি ভেঙে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ধ্বংসের মুখে ইরান?

আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। রবিবার ভোরের এই আকস্মিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
ইরানের দাবি, শনিবার সিরিক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছিল, এটি তারই পাল্টা জবাব। তেহরানের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালীতে একটি ট্যাঙ্কার সংক্রান্ত ঘটনার অজুহাতে আমেরিকা ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই আগ্রাসন চালিয়েছে।
এই হামলার পর আইআরজিসি-র নৌবাহিনী এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন হামলা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে কোনোভাবেই দুর্বল করতে পারবে না। উল্টো, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের নিয়মগুলোকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে দাবি করেছে তারা। সেই সাথে আইআরজিসি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আগামী দিনগুলোতে পুরো অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কাছে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘এম/টি কিকু’-র ওপর ড্রোন হামলার ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিশ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী ওই ট্যাঙ্কারে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়। সেন্টকমের মতে, তেহরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, “ইরান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপায়ে কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হবে। এমন এক সময় আসতে পারে যখন আমরা আর নমনীয়তা দেখাব না। পরিস্থিতি তেমনটা হলে, ইরান রাষ্ট্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ইসলামি সমঝোতা স্মারকের কোনো লঙ্ঘন ঘটলে সমস্ত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং যেকোনো শত্রুসুলভ আগ্রাসনের জবাব কঠোর ও ধ্বংসাত্মক হবে। আপাতত, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক সম্ভাব্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।