আন্তর্জাতিক মঞ্চে কড়া বার্তা ভারতের কন্যার! ভুল মানচিত্র দেখিয়ে ফেঁসে গেলেন প্রাক্তন বাংলাদেশী কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অটল অবস্থানের এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি পূজা কুমারী ঝা। শুক্রবার ঢাকার ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (BIISS)-এ আয়োজিত এক সেমিনারে ভারতের মানচিত্র বিকৃতির ঘটনায় তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বিশ্বকে ফের বুঝিয়ে দিলেন যে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার “Rebuilding Trust, Renewing Regional Integration: Pathways for Revitalising SAARC” শীর্ষক সেমিনার চলাকালীন। সভায় বক্তব্য রাখছিলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন হাই কমিশনার আহমেদ তারিক করিম। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি যে মানচিত্রটি প্রদর্শন করেন, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। মানচিত্রটি পর্দায় ভাসতেই প্রতিবাদে সোচ্চার হন পূজা ঝা।
নম্র কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে পূজা বলেন, “স্যার, এটি ভুল মানচিত্র। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” তাঁর এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে সভাকক্ষে চাঞ্চল্য পড়ে যায়। নিজের ভুল ঢাকার চেষ্টা করে প্রাক্তন কূটনীতিক আহমেদ তারিক করিম দাবি করেন, মানচিত্রটি শুধুমাত্র উপস্থাপনার সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমারেখা নির্দেশ করছে না। কিন্তু পূজা নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ফের স্পষ্ট করে দেন, “আমি বুঝেছি। কিন্তু স্যার, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একান্ত নিজস্ব অংশ। আর এখানে সেটা ভুল দেখানো হয়েছে। তাই আমি এটা ধরিয়ে দিলাম।”
উপস্থিত শ্রোতাদের একাংশের মতে, এই ঘটনায় বাংলাদেশের কিছু মহলের ভারতবিরোধী বা পাকিস্তানমুখী প্রবণতার একটি চিত্র যেন পুনরায় ফুটে উঠেছে। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে ভুল উপস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তা পূজা ঝা তাঁর পেশাদারিত্ব এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন।
পূজা ঝার পরিচয় পাওয়ার পর আহমেদ তারিক করিম কেবল “Point noted” বলেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে এই ঘটনাটি বার্তা দিয়ে দিল যে, ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা বা বিকৃতি ভারত কোনোভাবেই মেনে নেবে না। পূজা কুমারী ঝার এই নির্ভীক ও দৃঢ় অবস্থান এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে। দেশ ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় একজন তরুণ কূটনীতিকের এই ভূমিকা নিঃসন্দেহে এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।