ফের প্রকৃতির রোষে পাকিস্তান, বালুচিস্তানে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, এলাকাছাড়া বাসিন্দারা!

শনিবার সকালের ব্যস্ত মুহূর্তেই তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৪। ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (EMSC) প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশ। ভূগর্ভের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎস থাকায় তা আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। আচমকা এই কম্পনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ভূমিকম্পের প্রভাব ভারতে অনুভূত হয়নি, তবুও প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এই বিপদের খবরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। পরবর্তী আফটার শকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবে প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ভূকম্পন প্রবণতা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। গত বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি কম্পন আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৫ ও ৭.২। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঘটা এই জোড়া ঝটকায় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২২ তলার বহুতল ভবনসহ অসংখ্য বাড়িঘর ধসে পড়েছে। সেখানে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে স্কুল-কলেজ, বিমানবন্দর এবং সমস্ত পরিবহন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান ও এর পার্শ্ববর্তী এই অঞ্চলগুলো ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত সংঘর্ষ ও চাপের কারণে এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। বালুচিস্তান ও এর আশপাশের অঞ্চল অতীতেও একাধিক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে। ১৯৩৫ সালের কোয়েট্টা ভূমিকম্প এবং ১৯৪৫ সালের বালুচিস্তানের ভূমিকম্প ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হয়। ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং টেকটোনিক প্লেটের অস্থিরতা যেকোনো সময় বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে বালুচিস্তানের পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন সর্বোচ্চ নজরদারি চালাচ্ছে। মানুষ যাতে ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে, সে বিষয়েও প্রচার চালানো হচ্ছে। বড় ধরনের কোনো আফটার শকের সম্ভাবনা থাকলেও তার মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ভেনেজুয়েলার মতো ভয়াবহ ঘটনার ছায়া পাকিস্তান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেক করেছে।