সব কাজে ‘হ্যাঁ’ বলা বন্ধ করুন! মানসিক শান্তি ফেরাতে কী পরামর্শ দিলেন এই অ্যামাজন কর্মী?

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার অফিসের গণ্ডি পেরিয়ে কর্পোরেট জগতের কাজ এখন কার্যত ২৪ ঘণ্টার লড়াই। বসের গভীর রাতের মেসেজ বা ছুটির দিনেও ইমেল—সব মিলিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়ছে প্রতিমুহূর্তে। এই পরিস্থিতিতে মানসিক শান্তি বজায় রাখার এক অভিনব ‘মন্ত্র’ শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন হায়দরাবাদের এক অ্যামাজন কর্মী, নাম দীপিকা।

ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘deepika.not.padukone’-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে দীপিকা দেখিয়েছেন কীভাবে তিনি কর্পোরেট জীবনের চাপ কাটিয়ে নিজের জন্য সময় বের করছেন। হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ তাঁর এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

মানসিক শান্তি ও ভারসাম্য ফেরানোর উপায়: দীপিকা তাঁর পোস্টে যে অভ্যাসগুলি বর্জন করার পরামর্শ দিয়েছেন, তা অনেক কর্মীর কাছেই নতুন দিশা হিসেবে ধরা দিচ্ছে:

  • তৎক্ষণাৎ উত্তরের চাপ বর্জন: সব বার্তার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা সরিয়ে ফেলেছেন তিনি। দীপিকার মতে, যে মেসেজের উত্তর কিছুক্ষণ বাদে দিলেও কাজের ক্ষতি হয় না, তার জন্য নোটিফিকেশন এলেই ফোনের দিকে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

  • ‘না’ বলতে শেখা: আগে সব কাজে ‘হ্যাঁ’ বলতেন তিনি। এখন নিজের সামর্থ্য ও সময়ের মূল্যায়ন করে তবেই নতুন প্রকল্পে সায় দিচ্ছেন। অতিরিক্ত কাজ মানেই ভালো কর্মী হওয়া—এই ভুল ধারণা তিনি ঝেড়ে ফেলেছেন।

  • অতিরিক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই: কোনো সিদ্ধান্তের জন্য আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অজুহাত বা ব্যাখ্যা দিতেন তিনি। এখন তিনি বুঝেছেন, সবসময় বিস্তারিত কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

  • তুলনা বন্ধ করা: কর্মক্ষেত্রে অন্যের সাফল্য দেখে নিজেকে ছোট মনে করার দিন শেষ। প্রত্যেকের কাজের ধরন ও লক্ষ্য আলাদা, তাই নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করে হীনমন্যতায় ভোগা এখন পুরোপুরি বন্ধ।

  • সীমানা নির্ধারণ (Setting Boundaries): অফিসের সময় শেষ হওয়া মাত্রই ল্যাপটপ বন্ধ করে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনে কাজের চিন্তাকে প্রবেশ করতে না দেওয়া—এটাই তাঁর সাফল্যের মূল মন্ত্র।

টিমের সাথে স্বচ্ছ যোগাযোগ আগে তিনি দ্বিধা করতেন, কিন্তু এখন তিনি মনে করেন, কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে প্রশ্ন করাটা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং সঠিক সময়ে প্রশ্ন করলে ভবিষ্যতের বড় ভুল এড়ানো সম্ভব হয়।

দীপিকার এই পোস্ট প্রমাণ করে যে, কর্পোরেট জগতে সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান জরুরি। তাঁর এই ‘নতুন অভ্যাস’ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কর্মজীবীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।