কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরি পাওয়ার নেশা: বাবাকে খুন করিয়ে জেলে গেল মাস্টারমাইন্ড ছেলে

অনুকম্পামূলক বা ‘কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে’ সরকারি চাকরি পাওয়ার লোভে নিজের বাবাকেই সুপারি কিলার দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে ঘটা এই অমানবিক ঘটনায় হতবাক পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী। পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল চক্রান্তকারী ছেলে ও তার দুই ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: নিহত তুলেশ্বর নোনিয়া ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (BCCL)-এর বারোরা কোলিয়ারির স্থায়ী কর্মী ছিলেন। তাঁর অবসরের আর মাত্র দুবছর বাকি ছিল। পুলিশের দাবি, সেই সুযোগেই বাবার মৃত্যুর পর তাঁর জায়গায় কোলিয়ারিতে স্থায়ী সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল ছেলে বিজয় চৌহান।

খুনের ছক ও সুপারি: তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিজয় এলাকার দুই দাগী অপরাধী অমিত সিং ও অখিলেশ মাল্লার সঙ্গে ১০ লক্ষ টাকার চুক্তি করে। খুনের আগে অগ্রিম কোনো টাকা দেওয়া হয়নি, চুক্তি ছিল—চাকরি হাতে পাওয়ার পর পুরো টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

কীভাবে ঘটল নৃশংস হত্যাকাণ্ড? নিজের ওপর থেকে সন্দেহ সরাতে ঘটনার দিন বিজয় একটি নিখুঁত পরিকল্পনা করে এবং নিজেকে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের বাইরে থাকার প্রমাণ (Alibi) তৈরি করে রাখে। ১৯ জুন রাতে ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে তুলেশ্বর নোনিয়াকে মোটরবাইকে লিফট দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ওই দুই ভাড়াটে খুনি। সরল বিশ্বাসে বাইকে ওঠার পর তাঁকে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। খুনের ঘটনাটিকে ‘পথ দুর্ঘটনা’ হিসেবে চালানোর চেষ্টায় দেহটি রাস্তার ওপর ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজেই ফাঁস রহস্য: পুলিশের তদন্তে মোড় ঘুরে যায় কোলিয়ারির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে। সেখানে দেখা যায়, ঘটনার রাতে তুলেশ্বর নোনিয়াকে ওই দুই অপরাধীর বাইকের পেছনে বসেই শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে অমিত ও অখিলেশকে আটক করে জেরা করতেই পুরো সত্য বেরিয়ে আসে। পরে মূল চক্রান্তকারী হিসেবে গ্রেফতার করা হয় খোদ ছেলে বিজয়কে।

ধানবাদের পুলিশ সুপার এস মহম্মদ ইয়াকুব জানিয়েছেন, ধৃতরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। একটি সরকারি চাকরির লোভে ছেলের এই চরম ঘৃণ্য ও নিষ্ঠুর মানসিকতা ঘিরে এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।